ঢাকায় ৪র্থ SQAT Bangladesh: অংশ নিচ্ছেন ISTQB’র বর্তমান ও সাবেক গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সফটওয়্যারের মান, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ও টেস্টিং সম্মেলন। আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকার শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে ‘চতুর্থ সিম্পোজিয়াম অন সফটওয়্যার কিউএ অ্যান্ড টেস্টিং’। এবারের প্রতিপাদ্য ‘কোয়ালিটি ইন দ্য এজ অব এআই’।
সম্মেলনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে অংশ নেবেন ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশনস বোর্ডের (আইএসটিকিউবি) বর্তমান গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ক্লাউডিয়া ডুসা-জিগার এবং সাবেক গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট অলিভিয়ের ডেনু। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সফটওয়্যার টেস্টিং পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক মান, পেশাগত সনদায়ন এবং ভবিষ্যতের কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
১৬ অক্টোবর প্রকাশিত আয়োজকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সফটওয়্যার টেস্টিং বোর্ডের (বিএসটিবি) আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের একাডেমিক পার্টনার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। পরীক্ষাসংক্রান্ত ও ওয়েবভিত্তিক প্রশিক্ষণ সহযোগী হিসেবে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার কোয়ালিটি ইনস্টিটিউট (আইএসকিউআই)।
আয়োজকদের ভাষ্য, দেশের সফটওয়্যার মান নিশ্চিতকরণ, সফটওয়্যার টেস্টিং ও কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের পেশাজীবীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। এবারের সম্মেলনে সফটওয়্যারের গুণগত মান, স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার যাচাই, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সনদায়ন এবং দেশি-বিদেশি প্রযুক্তিবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
একই মঞ্চে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক, ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান, টেলিযোগাযোগ খাতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক নেতৃত্ব, সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং সফটওয়্যার কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবীরা অংশ নেবেন।
২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির লক্ষ্য
বাংলাদেশে সফটওয়্যার টেস্টিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার সনদপ্রাপ্ত টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএসটিবি। প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সনদ অর্জনকারীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিকে কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক প্রকল্প এবং প্রযুক্তিসেবা রফতানির সঙ্গে যুক্ত করা।
আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সফটওয়্যার টেস্টিং পেশাজীবীদের একটি বড় কর্মীবাহিনী গড়ে উঠলে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও ডিজিটাল পণ্যের মান, নির্ভরযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, দূরবর্তী কাজ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প এবং বৈদেশিক আয় অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সফটওয়্যার টেস্টিং, স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা, কার্যক্ষমতা যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস পরীক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার যাচাই এবং সেবাভিত্তিক টেস্টিংকে রপ্তানিযোগ্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে বিএসটিবি।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ১০ হাজার সনদপ্রাপ্ত টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা তাদের কাছে শুধু একটি সংখ্যাগত লক্ষ্য নয়। তারা চান, এসব পেশাজীবী দেশের সফটওয়্যারের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন, উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার টেস্টিং প্রকল্প বাংলাদেশে নিয়ে আসবেন।
তিনি বলেন, ভালো পরীক্ষা ভালো সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা করে, আর উন্নত সফটওয়্যার আন্তর্জাতিক আস্থা তৈরি করে। বাংলাদেশের প্রযুক্তিসেবার আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে এ আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএসটিবির লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দক্ষতা অর্জন থেকে কর্মসংস্থান এবং সফটওয়্যারের মান উন্নয়ন থেকে রফতানি আয়—এ ধারাবাহিক সংযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা। অর্থাৎ, সনদ অর্জনের পর পেশাজীবীদের চাকরি, আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও রপ্তানি আয়ের সঙ্গে যুক্ত করাই উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বদলাচ্ছে সফটওয়্যার পরীক্ষার ধরন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ সফটওয়্যার তৈরি ও পরীক্ষার প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কোড লেখা, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার পরীক্ষা এবং বুদ্ধিমান উন্নয়ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে কাজের গতি বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে এসব প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা, পূর্বানুমানযোগ্যতা, ন্যায্যতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে।
এ কারণে এবারের সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যার পরীক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থার যাচাই, স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা, কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, নিরাপত্তা, সফটওয়্যারের নির্ভরযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের পেশাগত দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
আয়োজকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সফটওয়্যারের মান নিশ্চিত করাকে শুধু উন্নয়নপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যবসার ধারাবাহিকতা, ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং গ্রাহকের বিশ্বাস বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সফটওয়্যারের মান গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের এক মঞ্চে আনার উদ্যোগ
সফটওয়্যারশিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সনদায়নব্যবস্থা এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোও এ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
একাডেমিক পার্টনার হিসেবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অংশগ্রহণের ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা, গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যতের দক্ষ সফটওয়্যার টেস্টিং পেশাজীবী তৈরির বিষয়ে আলোচনা হবে।
একই সঙ্গে সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের কর্মশক্তি গড়ে তোলা এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনায় সফটওয়্যার টেস্টিং খাতকে আরও গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার টেস্টিং কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে সম্মেলনটি আইএসটিকিউবির আন্তর্জাতিক সম্মেলন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসটিবি। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক গ্লোবাল প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণ দেশের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যোগাযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিনব্যাপী আয়োজন, শুরু হয়েছে নিবন্ধন
৫ ডিসেম্বরের এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্লাস, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন, প্যানেল আলোচনা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, পেশাগত যোগাযোগ এবং সনদায়ন ও ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শ। পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানার ব্যবস্থাও থাকবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারী অংশগ্রহণকারীরা দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নেয়ার সুযোগের পাশাপাশি সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, বিকেলের আপ্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক গ্লোবাল প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরযুক্ত অংশগ্রহণ সনদ পাবেন।
সফটওয়্যার কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী, সফটওয়্যার পরীক্ষক, প্রকৌশলী, সফটওয়্যার নির্মাতা, পণ্য উন্নয়নকর্মী, এ পেশায় আগ্রহী তরুণ এবং শিক্ষার্থীদের সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
সম্মেলনের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৬। স্থান ঢাকার শেরাটন হোটেল। আগ্রহীরা নিবন্ধন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আয়োজকদের ওয়েবসাইট [http://sqat.bstb-bd.org](http://sqat.bstb-bd.org) ভিজিট করতে পারবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে পেশাগত সনদায়নের সংযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের সফটওয়্যার টেস্টিং খাত ভবিষ্যতে বৈদেশিক আয় ও প্রযুক্তিসেবা রপ্তানিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
সবার দেশ/কেএম




























