স্বস্তি ফিরলো শহরে
জলঢাকায় ইউএনও মাঠে নামতেই উধাও যানজট
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট যেনও মুহূর্তেই উধাও। প্রতিদিন যেখানে যানবাহনের চাপে নাকাল হতে হতো পথচারী ও যাত্রীদের, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি সরাসরি সড়কে নামতেই মিলেছে স্বস্তি।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে জলঢাকা জিরো পয়েন্টসহ পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট নিরসনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেয় পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা।
অভিযান শুরু হতেই শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। যত্রতত্র পার্কিং করা রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সরিয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে যানজটের কারণে অচল হয়ে থাকা জিরো পয়েন্ট মোড়সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলঢাকা শহরের জিরো পয়েন্ট মোড় বহু বছর ধরেই মানুষের ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। বিশেষ করে বাজার ও অফিস সময়গুলোতে এ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
পথচারী রশিদ মিয়া, আবুল হোসেন ও রনজিত কুমার বলেন, শুনেছি চীনের দুঃখ হোয়াংহো, মিশরের দুঃখ নীল নদ। আর আমাদের জলঢাকা শহরের দুঃখ ছিলো জিরো পয়েন্ট মোড়। কয়েক দশক ধরে মানুষ কষ্ট করলেও কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। নতুন ইউএনও দায়িত্ব নিয়েই সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন। এখন অন্তত স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শহরের যানজট সমস্যা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, আসন্ন ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় শহরে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে সাধারণ মানুষের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ঈদের পরবর্তী সময় পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
যানজট নিরসন অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম, এলজিইডির সহকারী মাঠ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ারসহ ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।
সবার দেশ/কেএম




























