উপাচার্য পদে সায়েমকে ফেরানোর দাবি
হুমকি উপেক্ষা করে মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে সোমবার গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এর আগে রাত ১১টা থেকেই বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে স্লোগান দিতে দিতে স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতা চত্বর সরব হয়ে ওঠে।
পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে যানবাহন শাখা-সংলগ্ন সড়ক দিয়ে চুয়েটের আবাসিক এলাকার গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করেন। এরপর মিছিলটি পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিলো, ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান।
মিছিল শেষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, অনেকেই মনে করতে পারেন আমাদের আন্দোলনে জনবল কমে যাচ্ছে। আজকের মিছিলের উপস্থিতিই তাদের এ মিথ্যা কথার জবাব।
পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন,
আন্দোলন চলাকালে কতিপয় মহল হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই,
হুমকি দিয়ে আমাদের এ আন্দোলন দমানো যাবে না। আমাদের গণতান্ত্রিক দাবি একটাই—কুয়েটের অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল চাই। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল চাই।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে চুয়েটে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। উপাচার্য পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পরে এ আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এতে সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতিও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি, অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপাচার্য পদে রদবদলকে কেন্দ্র করে টানা সাত দিন ধরে চুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবি হলো অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা।
সবার দেশ/কেএম




























