গোপনে আমিরাত সফর নেতানিয়াহুর, বৈঠকে ইরান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্সও সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, দুই নেতার বৈঠকে মূলত ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল ও আমিরাতের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত একটি বিমানে করে আবুধাবি যান এবং একই দিন ইসরায়েলে ফিরে আসেন। সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এটি নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গোপন কূটনৈতিক সফর হিসেবে সামনে এসেছে।
বৈঠকে ইরানকে কেন্দ্র করে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত ও কূটনৈতিক তৎপরতা পাশাপাশি চলছে। ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের সময় নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের প্রায় এক মাস আগে এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সফরটি নির্বাচনী উদ্দেশ্যে ছিলো—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে সফরের সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে আমিরাতের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে সতর্ক করার অভিযোগের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ সম্প্রতি দাবি করেছে, হামলার প্রায় ১০ দিন আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের সম্ভাব্য বড় ধরনের একটি অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
নেতানিয়াহুর দফতর ওই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি নেতাদের কথোপকথন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বা জল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করে না বলে জানিয়েছে। অর্থাৎ ওই সতর্কবার্তা দেয়ার অভিযোগটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এক নয়।
সবার দেশ/কেএম




























