Sobar Desh | সবার দেশ টঙ্গী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

টঙ্গীর আগুন নিয়ন্ত্রণে ২১ ইউনিটের সঙ্গে সেনাবাহিনী-বিজিবি

কয়েক ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন; পাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট।

টঙ্গীর আগুন নিয়ন্ত্রণে ২১ ইউনিটের সঙ্গে সেনাবাহিনী-বিজিবি
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় এসেনশিয়াল ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট কাজ করছে। আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনাবাহিনীর একটি দল। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গীর বেক্সিমকো রোডে অবস্থিত কারখানাটিতে আগুন লাগে। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতা এবং পাশের ভবনে তা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

আগুন নেভাতে ২১ ইউনিট, যোগ দিল সেনাবাহিনী-বিজিবি

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে আরও ১৮টি ইউনিট যুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে ২১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে নিজস্ব পানির ট্যাংক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করতে তারা কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিজিবির সদস্যরাও যোগ দেন।

কারখানার ভেতরে আগুনের তীব্রতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং আশপাশের স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি থাকায় বাড়তি ঝুঁকি

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, কারখানার ভেতরে উৎপাদনকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পদার্থ, ধাতব যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য শিল্পসামগ্রী রয়েছে। আগুনে এসব মালামাল বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।

কারখানার ভেতরে রাসায়নিক পদার্থ থাকার কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হচ্ছে। আগুনের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন। তবে কোনও নির্দিষ্ট রাসায়নিকের কারণে বিস্ফোরণ বা বিষাক্ত গ্যাস ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে আগুন

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে কারখানার একটি ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা পাশের চারতলা একটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যাচ্ছে বলে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে।

আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি পাশের ভবন ও আশপাশের স্থাপনাগুলোকে আগুনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার চেষ্টা চলছে।

তবে আগুনে কারখানা ও পাশের ভবনের কতটুকু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না কিংবা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎপরতা

আগুনের ব্যাপকতা বাড়তে থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে কারখানার নিজস্ব পানির ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে পানির সংকট দেখা দেয়ার খবর পাওয়া যায়।

পরে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানিবাহী গাড়ি এনে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা নেয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর নিজস্ব পানির ট্যাংক নিয়েও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর বিষয়টি অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সহায়তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট

অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে আশপাশের সড়ক যোগাযোগেও। আগুনের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি সেবার গাড়িগুলোর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের অপেক্ষা

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছেন। তবে আগুনের কারণ, হতাহতের সংখ্যা এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত আগুনের বিস্তার ঠেকানো, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আশপাশের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই উদ্ধারকর্মীদের প্রধান লক্ষ্য।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছি,সুস্থ হয়েই ফিরবো: চুয়েট ভিসি
বাংলাদেশের তরুণরা আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা
টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে: ফায়ার সার্ভিস
টঙ্গীর আগুন নিয়ন্ত্রণে ২১ ইউনিটের সঙ্গে সেনাবাহিনী-বিজিবি
১৬ ইউনিটেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ওষুধ কারখানার আগুন
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট
ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড