মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি ক্রিস্টা পাইকের
যুক্তরাষ্ট্রে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার প্রায় এক সপ্তাহ পর জ্ঞান ফিরেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ক্রিস্টা পাইকের। ৫০ বছর বয়সী এ নারী বর্তমানে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ক্রিস্টা পাইকের শরীরে পেন্টোবার্বিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধের দুটি ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। তবে ইনজেকশন দেয়ার পরও তিনি মারা যাননি। গুরুতর অবস্থায় তাকে ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর এখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
এদিকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা। তারা আদালতে জরুরি আবেদন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিলো, সেখানে কোনও ত্রুটি বা অসংগতি ছিলো কি না এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ চেয়েছেন।
আইনজীবীদের এ আবেদনের পর ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার জন্য ভবিষ্যতে টেনেসি অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি মামলা করতে পারেন ক্রিস্টা পাইকের পক্ষ। বিশেষ করে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের ভুল বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছিলো কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তারা।
ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পেন্টোবার্বিটালের দুটি ডোজ প্রয়োগের পরও তিনি বর্তমানে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাকে হাতকড়া পরিয়ে রাখার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
ক্রিস্টা পাইক ১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমিয়ারের হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এরপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হলেও সেটি ব্যর্থ হয়।
এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের প্রক্রিয়া এবং কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণ করতে পারলে পরবর্তী আইনি লড়াইয়ে সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























