Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২৭, ৮ জুলাই ২০২৫

জরুরি অবস্থা অপব্যবহার রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি: ঐকমত্য কমিশন

জরুরি অবস্থা অপব্যবহার রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি: ঐকমত্য কমিশন
ছবি: সংগৃহীত

জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়টি যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের দশম দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদের (ক), (খ), (গ) ধারাসমূহে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন ও পরিমার্জনের ব্যাপারেও রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের অন্যান্য সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

সভায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালত সম্প্রসারণ—এ দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলী রীয়াজ জানান, অতীতে সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে থাকা জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান নিয়ে রাজনৈতিকভাবে তেমন আলোচনা হয়নি, এবার দলগুলোর সঙ্গে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, পূর্ববর্তী আলোচনা পর্যালোচনা করে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়ে একটি সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী সভায় এ প্রস্তাব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং তখন বিষয়টি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কতটুকু চূড়ান্ত ঐক্যমত হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।

অধস্তন আদালত উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের ব্যাপারে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর মধ্যে নীতিগত সম্মতি হয়েছে। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দলগুলো মনে করে, সদর উপজেলার আদালতকে জেলা জজকোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত রেখে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যমান চৌকি আদালত, দ্বীপাঞ্চল এবং ইতোমধ্যে স্থাপিত আদালত বহাল রাখা উচিত। নতুন আদালত স্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা সদরের কাছাকাছি উপজেলায় নতুন আদালত স্থাপনের প্রয়োজন নেই বলেও সভায় মতামত উঠে এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জরিপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবশিষ্ট উপজেলাগুলোর জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, দূরত্ব, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মামলার সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে আদালত স্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছে দলগুলো। আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

আজকের আলোচনায় বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সবার দেশ/এফএস 

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন