চীন সফরের প্রতিনিধি দলে জকসুর কেউ নেই, ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা
চীন সরকারের আমন্ত্রণে আগামী ৪ থেকে ১৪ জুন বিএনপির একটি তরুণ প্রতিনিধি দলের চীন সফরকে ঘিরে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিনিধি দলে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০ জন ছাত্রনেতা স্থান পেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) থেকে নির্বাচিত কোনও প্রতিনিধির নাম না থাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল নেতারা।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিনিধি দলের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক ও ছাত্ররাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহকারী দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন, যুবদল নেতা গালিব হাসান প্রিতম ও আরাফাত বিল্লাহ খান।
এছাড়াও প্রতিনিধি দলে স্থান পেয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এজিএস জান্নাতুল নওরীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রোকেয়া হল ছাত্রদলের সভাপতি শ্রাবণী আক্তার, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি নওশীন তাবাসসুম অথৈ এবং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সেলিমা বিনতে তারিন রোদসী।
তালিকায় আরও রয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী রাবেয়া তাহসিন মুন, জকসুর জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল মালুম, সহ-সভাপতি জহির রায়হান আহমেদ, এ.বি.এম ইজাজুল কবির রুয়েল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল খান, সাবেক জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামিম, জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতু এবং চাকসুর এজিএস আইয়ুব রহমান তৌফিক।
তবে জুলাই-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ ছাত্রদলের শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও জকসু থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচিত জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা করছি।
জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাদমান সাম্য বলেন, এ তালিকায় আমাদের জায়গা হয়নি ঠিকই, তবে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের সফর হবে। তখন জগন্নাথসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগ্য ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সুযোগ পাবেন বলে আশা করি।
তিনি আরও বলেন, দল আসলে কে জয়ী আর কে পরাজিত, সেটি বিবেচনা করেনি। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে জগন্নাথ অবশ্যই মূল্যায়িত হবে।
এদিকে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ খান বলেন, ন্যায্যতা ও গণতান্ত্রিক চর্চায় বিএনপি ও ছাত্রদল সবসময় অগ্রণী। সে জায়গায় জকসুতে ছাত্রদলের সাফল্যকে মূল্যায়ন না করে নেয়া এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, চীনা সরকারের আমন্ত্রণে বিএনপির প্রতিনিধি দল সফরে যাচ্ছে। তালিকায় মূলত বিভিন্ন ছাত্র সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে প্রার্থী ছিলেন—এমন নেতাদের রাখা হয়েছে। পরবর্তী তালিকায় জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও সুযোগ পাবেন বলে আশা করছি।
সবার দেশ/কেএম




























