নির্বাচন ভবনের সামনে শেষ কেকের গন্ধ
আগারগাঁওয়ে ‘কেক পট্টি’ উচ্ছেদ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের আশপাশে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় ‘কেক পট্টি’ আর থাকছে না। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে এসব দোকান বসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে রাস্তার পাশের সব অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
শেরে বাংলা নগর থানার ওসি ইমাউল হক জানান, গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক এলাকায় এ ভাসমান দোকানগুলো যান চলাচলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করছিলো। এতে শুধু গাড়ি নয়, পথচারীরাও চরম দুর্ভোগে পড়ছিলেন। তিনি বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করে জনগণ বহুবার অভিযোগ করেছে। আজ আমরা গিয়ে সবাইকে সরে যেতে বলেছি। আগামীকাল থেকে কেউ বসতে পারবে না।
ওসি আরও জানান, আমরা কাউকে নির্দিষ্ট করে টার্গেট করিনি। যেহেতু জনগণের চলাচল বিঘ্ন ঘটছিলো, তাই সাধারণ ভাসমান দোকানদারদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আগারগাঁওয়ের এ কেক পট্টি মূলত কিছু তরুণ-তরুণীর উদ্যোগে শুরু হয়েছিলো। নিজেদের হাতে তৈরি কেক বিক্রি করতেন তারা। শুরুতে এটি ছিলো একরকম সৃজনশীল ছোট উদ্যোগ। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় কেক বিক্রির ভিডিও ও ছবি। ফেসবুক ও ইউটিউবে কেকপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়তে থাকলে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসে ‘কেক পট্টি’তে। ধীরে ধীরে জায়গাটি পরিণত হয় এক ধরনের ভাসমান ফুডজোনে।
তবে জনপ্রিয়তার এ ঢেউয়ের মধ্যেই বাড়তে থাকে যানজট ও বিশৃঙ্খলা। নির্বাচন কমিশন ভবন, আইডিবি ভবন ও আর্কিটেক্টস ইনস্টিটিউটের সামনের রাস্তাজুড়ে দোকান বসানো, বাইক পার্কিং করা, এমনকি গেটের মুখে দাঁড়িয়ে খাওয়া—এসব কর্মকাণ্ডে প্রায়ই পুরো এলাকা স্থবির হয়ে যেতো।
ওসি ইমাউল হক বলেন,
একদিকে মানুষ অভিযোগ করছে, আবার সে মানুষেরাই দোকানে বসে খাচ্ছে। জনগণ সহযোগিতা না করলে কোনো ব্যবস্থাই সফল হবে না।
স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস থেকে ইসি ভবন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় কেক পট্টিতে জমে থাকত ভিড়। রাস্তার অর্ধেক দখল করে দোকান বসানোয় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেতো।
পুলিশের এ অভিযানের পর এখন পুরো এলাকাটি ফাঁকা। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা হতাশ হলেও এলাকাবাসীর একাংশ মনে করছেন, সরকারি ও সংবেদনশীল দফতরের সামনে এমন ভাসমান দোকান থাকা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এ উচ্ছেদ কি কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নাকি নগরজীবনের এক ক্ষণিক আনন্দবিন্দু হারিয়ে যাওয়ার গল্প?
সবার দেশ/কেএম




























