গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ, ফ্ল্যাটে ছিলেন এমপি!
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্য ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আলামত সংগ্রহ ও ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, লঅশ উদ্ধারের সময় গাজী নজরুল ইসলাম ফ্ল্যাটেই ছিলেন। পুলিশ ঘটনাটির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় তিনি ফ্ল্যাটে ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখতে পায়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত সংগ্রহের জন্য সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও কাজ শুরু করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য দেয়া হয়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, আজই ঢাকার একটি আদালতে জামিননামা জমা দেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রাজধানীর পল্লবী থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি জামিননামা দাখিল করেন।
গাজী নজরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে জুলাই মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে দলীয় তদন্তের পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে গত ২২ জুলাই তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ওই সময় গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়ম খাতুনকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের বিয়ের দাবির বিষয়টিও উঠে আসে। তবে বিয়ে ও সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে তখন বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো।
বর্তমানে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আলামত সংগ্রহ, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
সবার দেশ/কেএম




























