সেমিনারে জামায়াত আমির
‘সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এজেন্সি সিন্ডিকেট বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর জন্য ২৫টি এজেন্সি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব এজেন্সি কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে এবং এর পেছনে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৫টি এজেন্সিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠান মাস্টার এজেন্সি হিসেবে কাজ করবে এবং তাদের অধীনে সহযোগী এজেন্সি থাকবে। কিন্তু এসব এজেন্সি নির্বাচনের যোগ্যতার মানদণ্ড কী ছিলো, সেটি পরিষ্কার নয়।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন কিছু এজেন্সির নাম এসেছে, যাদের এ ধরনের কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তাহলে কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে, সরকারকে তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগের যে কথা শোনা যাচ্ছে, সেটি সত্য হলে তিনি এর নিন্দা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিশ্চয়ই সরকারের সঙ্গে জড়িত না হলে এটা হয় কীভাবে? সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা জড়িত নয়। সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে, কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে এদেরকে সিলেক্ট করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ বন্ধেরও দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ইতোমধ্যে তিনবার বন্ধ হয়েছে। আবার চালু হওয়ার পর এটি চতুর্থবার বন্ধ হোক, তা তারা চান না। এ জন্য শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনও ধরনের সিন্ডিকেটকে সুযোগ না দেয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা কোনও সিন্ডিকেট চাই না, আমরা একটা সুস্থ শ্রমবাজার পরিবেশ চাই। সমস্যাটা শুধু মালয়েশিয়াকে ঘিরে নয়, দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, বিশেষ করে এশিয়া এবং মিডল ইস্টের দেশগুলোতেই বেশি হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অতীতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো কার্যকর রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাতো শ্রী আমিন নামের একজনের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ওই ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। সেটি এখনও চালু রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনও কোনও নেতা এখনও গোপনে বৈঠক করেন।
তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলবো, বন্ধ করেন। কোনও আমিনের নাম আর শুনতে চাই না। এ আমিনরা কী করবে বাংলাদেশ দেখে ফেলেছে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। সরকার উদ্যোগ নিলে এ বিষয়ে বিরোধী দল সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
সিন্ডিকেট বন্ধে সরকারকে বাধ্য করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার তা না করলে জনগণ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে শ্রমবাজারে এ ধরনের সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব রাখা হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
‘উচ্ছৃঙ্খল বিরোধী দল হতে চাই না’
সেমিনারে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, এখন সেগুলো অস্বীকার করছে এবং উল্টো পথে চলছে।
কাউকে সরিয়ে কাউকে বসানোর দাবিতে বিরোধী দল আন্দোলন করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন,
উচ্ছৃঙ্খল বিরোধী দল হতে চাই না। এর মাধ্যমে কোনও কলঙ্ক লেপন করতে চাই না। আবার আমরা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে অনুগত হবো না। জায়গামতো কথা বলবো, যা উচিত মনে করবো, চোখের দিকে তাকিয়ে তা বলবো।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ন্যায্য কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো আইনের ভয় তিনি করেন না। এমন আইন প্রণয়নের পথেও বাধা দেয়ার কথা জানান তিনি। তার বক্তব্য, আইন করা হলেও ন্যায় ও সত্যের কথা বলা থেকে তারা বিরত থাকবেন না।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট দেয়ার সুযোগ বাদ দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রবাসীরা যেখানেই থাকুন, তাদের ভোট দেয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী শাহরিয়ার কবির।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক কূটনৈতিক সাকিব আলী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অনেকে।
সবার দেশ/কেএম




























