ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট ও দাঙ্গায় প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি
জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, আটক ৩০
জার্মানিতে তরুণদের ‘জেন-জি’ সংগঠনের ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন শহরে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সামরিক নীতি ও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনরায় চালুর আশঙ্কার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে।
স্থানীয় সময় শনিবার দিনের বেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর মুখোশধারী কয়েকটি দল সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকার বিভিন্ন দোকানের কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে লুটপাট চালানো হয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকেই প্রায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, এ সহিংসতার পেছনে উগ্র বামপন্থীদের উসকানি ও অনুপ্রবেশ রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ফ্রাঙ্কফুর্টের বাইরে রাজধানী বার্লিন, কোলন ও হামবুর্গেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। কোলন ক্যাথিড্রালের কাছে প্রায় ২০০ জন পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও সাইকেল ছুড়ে মারা হয়।
বার্লিনে ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার সময় পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। সেখান থেকে সাময়িকভাবে ৫৬ জনকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে ছিলো শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সামরিক নীতির বিরুদ্ধেও তারা প্রতিবাদ জানায়। তবে কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জার্মান প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার মতো সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে।
সবার দেশ/কেএম




























