ঝড়ে বিপর্যস্ত উত্তর ইউরোপ, বিদ্যুৎহীন দেড় লাখের বেশি বাড়ি
শক্তিশালী ঝড়ের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ঝড়ের তাণ্ডবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিতে দেড় লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক সেবা, বন্ধ রয়েছে সড়ক ও রেলপথের বিভিন্ন অংশ। এ ছাড়া শত শত ফ্লাইট বাতিল কিংবা অন্য পথে পরিচালনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বোয়েলো ও অস্টেন নামের দুটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৮২ হাজারের বেশি, ফ্রান্সে প্রায় ৬০ হাজার এবং জার্মানিতে অন্তত ১০ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের আর্গাইল অ্যান্ড বিউট কাউন্সিল এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যায়। ঝোড়ো বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের তার উপড়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের এনার্জি নেটওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ঝড়ের সময় দেশটিতে চার লাখের বেশি বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছিলো। শুক্রবার স্টর্ম অস্টেনের আঘাতে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের ব্রাইটনে একটি পুরোনো জেটির অংশবিশেষ উড়ে যায়। ২০০৩ সালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে জেটিটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
ইউরোপে চলতি বছরের শরৎকালের প্রথম বড় ঝড়ের আঘাতে ইংলিশ চ্যানেলের অপর পারে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়াবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে ভবিষ্যতে চরম বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনেদিস জানিয়েছে, শনিবার অস্টেন ঝড়ের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দেশটির প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিলো না। রোববার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫৯ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এসব বাড়ির অধিকাংশই নরম্যান্ডি ও ব্রিটানি অঞ্চলে অবস্থিত।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে এনেদিসের প্রায় ২ হাজার ৬০০ কর্মী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কাজ করছেন।
জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রাইবুর্গ ইম ব্রাইসগাউ শহর ও আশপাশের এলাকায় রোববার অস্টেন ঝড়ের কারণে অন্তত ১০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে শহরটির প্রধান হাসপাতাল শুধু জরুরি রোগীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।
জার্মান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার নাসটাটেন শহরে শরৎকালীন মেলা চলার সময় ঝোড়ো বাতাসে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি মাচা উড়ে যায়। এতে দুজন গুরুতর আহত হন।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ডিডব্লিউডি পূর্বাভাস দিয়েছে, রোববার জার্মানির উত্তর উপকূলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে। নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামেও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। শনিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গাছ পড়ে চারজন আহত হন।
বাতিল শত শত ফ্লাইট
ঝড়ের কারণে উত্তর ইউরোপজুড়ে আকাশপথে যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে অথবা বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের শিফল বিমানবন্দরে রোববার কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বিমানবন্দরটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি প্রায় ৯০টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য পেয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর অধিকাংশই প্যারিস, রোম ও ডাবলিনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরগামী ছিল। এ ছাড়া শিফল বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিলো, এমন কয়েক ডজন ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
ঝড়ের কারণে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল ও স্কটল্যান্ডেও উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ, যোগাযোগব্যবস্থা ও পরিবহনসেবা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
সূত্র: এএফপি
সবার দেশ/কেএম




























