Sobar Desh | সবার দেশ নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:৫৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রতিবেদন

‘সংসদে পাস হওয়া তিন আইন মানবাধিকার সুরক্ষায় দুর্বল’

গুম তদন্তে ক্ষমতা কমানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ

‘সংসদে পাস হওয়া তিন আইন মানবাধিকার সুরক্ষায় দুর্বল’
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া তিনটি আইন দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, এসব আইনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীন সরকারের সময়ে নেয়া কিছু সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বাতিল বা সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) তদন্ত ক্ষমতা, জোরপূর্বক গুমের তদন্ত কাঠামো এবং র‍্যাবের পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এনএইচআরসির তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করার অভিযোগ

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলো। এসব অধ্যাদেশের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত, গুম প্রতিরোধ এবং আটককেন্দ্র পরিদর্শনের মতো ক্ষমতা কমিশনকে দেয়া হয়েছিলো।

তবে সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে কমিশনের সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

এইচআরডব্লিউর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কমিশন সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রতিবেদন দিতে বলতে পারবে। ওই প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে অথবা নির্ধারিত প্রতিবেদন দেয়া না হলে কমিশনের নিজস্ব তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, নতুন আইনে কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কমিশনের বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে তারা।

গুম তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু নতুন আইনে সে দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দেয়া হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বাহিনীকে তদন্ত থেকে বাদ দিয়ে অন্য কোনও নিরাপত্তা সংস্থা বা আন্তঃসংস্থা তদন্ত দলের মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের কাঠামো তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা প্রত্যাহারের দাবি

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, আগের অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আটককেন্দ্র, এমনকি গোপন আটককেন্দ্র থাকার সন্দেহ রয়েছে—এমন স্থানও পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিলো। নতুন আইনে সে ক্ষমতা আর রাখা হয়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া গুমের ঘটনায় কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণের আইনি মানদণ্ড পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, আগের ব্যবস্থায় কোনও কর্মকর্তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতেন বা জানা উচিত ছিলো এবং তা প্রতিরোধে সক্ষম ছিলেন—এমন পরিস্থিতিতেও দায় নির্ধারণের সুযোগ ছিলো। নতুন ব্যবস্থায় সরাসরি নির্দেশ দেয়ার প্রমাণ প্রয়োজন হবে বলে দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ।

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন, এসআরবি গঠন

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন পাস করে র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নামে বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটির দাবি, র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ এবং নথিপত্র নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাহিনীর লোগোও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, শুধু ‘RAB’-এর পরিবর্তে ‘SRB’ লেখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে তারা।

এইচআরডব্লিউর মতে, নতুন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত মানবাধিকার সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাধীন তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি।

সংস্থাটি মনে করছে, শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করা যায় না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত সংস্কারের আহ্বান

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা গঠন বা কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহির বাইরে রাখার উদ্যোগ জনগণের আস্থা তৈরিতে সহায়ক নয়।

সরকারের অবস্থান কী?

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনকে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছেন, নতুন আইনে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে নতুন আইনগুলোর মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষা কতটা জোরদার বা সীমিত হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। আইনগুলোর বাস্তব প্রয়োগ, তদন্তের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহির কার্যকারিতা ভবিষ্যতে এ বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

গানে ‘ভাইরাল’ হওয়া বিউটি পাল এবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারে: প্রধানমন্ত্রী
এমপি-মন্ত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে নই: জামায়াত আমির
র‌্যাংকিং নয়, সামর্থ্যেই বিশ্বাস হামজার
হাঁস-মুরগি নিয়ে ওসিকে বিদায় জানালেন এলাকাবাসী
ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বারিধারায় গাড়িচাপা: চালক কিশোর, মামলায় আসামি অন্যজন
মরিয়মের মৃত্যু তদন্তে নতুন মোড়, মামা ওবায়দুর গ্রেফতার
১৬ দিন বিদ্যুৎহীন আইএইচটি, অনির্দিষ্টকালের ছুটি
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা
গায়ের জোরে ইরানিদের দমানো যাবে না: পেজেশকিয়ান
বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
আগ্রাসি হয়ে উঠছে ডেঙ্গু ২৪ ঘণ্টায় গেলো ৬ প্রাণ
এ বছর স্থানীয় নির্বাচন নয়: মীর শাহে আলম
সংসদে পাস হওয়া তিন আইন মানবাধিকার সুরক্ষায় দুর্বল: এইচআরডব্লিউ
চলন্ত মেট্রোর দরজা খুলে বন্ধ ২৬ মিনিট চলাচল বন্ধ