জ্বালানি সংকটে কোনও পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ
জ্বালানি সংকটে গত দুই মাসে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হলেও কোনও কারখানা বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি জানান, গত সাত দিনের তুলনায় বর্তমানে শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাটেক্সপো আয়োজন, নতুন বাজার ও ক্রেতা অনুসন্ধান এবং পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, হঠাৎ কোনও সংকটের কারণে একটি কারখানা দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় না। একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। কারণ কারখানাগুলোয় আগের ক্রয়াদেশ থাকে, পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতনসহ নানা ধরনের দায়বদ্ধতা থাকে। ফলে মাত্র দুই মাসের জ্বালানি সংকটের কারণে কোনও কারখানা বন্ধ হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। এ সংকটের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও সময় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এক বছর আগের কোনও সমস্যার কারণে যদি কোনও কারখানা বন্ধ হয়ে থাকে, সেটির দায় বর্তমান পরিস্থিতির ওপর দেয়া ঠিক হবে না। শিল্প খাতে কারখানা বন্ধ হওয়া এবং নতুন কারখানা চালু হওয়া একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া।
বিজিএমইএ সভাপতি আশ্বস্ত করে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এখনই কোনও পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন কমে গিয়ে কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে গ্যাসের ব্যবহার কমানো এবং সাশ্রয় হওয়া গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহের পরামর্শ দেন তিনি।
রফতানি পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে দেশের সামগ্রিক রফতানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত বছরের আগস্টে রফতানি কম থাকায় এবার প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাকশ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জমি বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।
এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার আবেদন চলতি মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হবে।
সবার দেশ/কেএম




























