৩২০ রানে পিছিয়ে থেকেও ইংল্যান্ডকে ১২৯ রানের লক্ষ্য
অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর রেকর্ডে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য কামব্যাক
অভিষেকেই ৯ ছক্কার ঝড় • ৮১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস • আব্বাসকে নিয়ে ১২১ রানের জুটি • ইনিংস হারের শঙ্কা কাটিয়ে ৪৪৯-এ পাকিস্তান
এ যেনো হারতে হারতে জিতে যাওয়ার গল্প। একসময় ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা পাকিস্তানই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ১২৯ রানের লক্ষ্য। আর এ অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় নায়ক ২১ বছর বয়সী অভিষিক্ত পেস বোলিং অলরাউন্ডার রাজাউল্লাহ।
এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিলো পাকিস্তান। জবাবে ৪৫৩ রান করে ইংল্যান্ড নেয় ৩২০ রানের বিশাল লিড। এমন অবস্থায় দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের শুরুটাও হয় ভয়াবহভাবে। রানের খাতা খোলার আগেই হারায় দুই উইকেট। মনে হচ্ছিলো, আরেকটি লজ্জাজনক পরাজয় এবং ইনিংস হারের অপেক্ষাই করছে সফরকারীরা।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
রাজাউল্লাহর ব্যাটে ঝড়
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন আজান আওয়াইস, শান মাসুদ ও বাবর আজম। তাদের লড়াইয়ে ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি হলেও শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান।
অষ্টম ব্যাটার মোহাম্মদ ইমরান আউট হওয়ার সময়ও ইংল্যান্ড এগিয়ে ছিলো ২ রানে। তখনও পাকিস্তানের ইনিংস হারের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
এরপরই ব্যাট হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান রাজাউল্লাহ।
নবম উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়েন অবিশ্বাস্য ১২১ রানের জুটি। ৬৩ বলে ৪ চার ও ৯ ছক্কার সাহায্যে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রাজাউল্লাহ। তার ব্যাটে যেন মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
আব্বাসও কম যাননি। ৬৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৪২ রান। আব্বাসের বিদায়ে ভাঙে এ দুর্দান্ত জুটি। এরপর আর মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে রাজাউল্লাহও ফিরে গেলে ৪৪৯ রানে থামে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস।
অভিষেকেই রেকর্ড
টেস্ট অভিষেকের প্রথম ইনিংসেই ৯টি ছক্কা মেরে রেকর্ডের পাতায় নাম লিখিয়েছেন রাজাউল্লাহ। টেস্ট অভিষেকের কোনও ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন তিনি।
এর আগে ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি অভিষেক টেস্টে এক ইনিংসে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন। এবার সে রেকর্ডে ভাগ বসালেন পাকিস্তানের এ তরুণ।
শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডের মাটিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৯ ছক্কার রেকর্ডেও বেন স্টোকসের পাশে বসেছেন রাজাউল্লাহ।
সামনে ছিলেন মাসুদ-বাবর
এর আগে পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত গড়ে দেন আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ। প্রথম উইকেটের জুটিতে তারা যোগ করেন ১২৫ রান। ৮৪ বলে ১০ চারে ৫৯ রান করে আজান ফিরলে ভাঙে সে জুটি।
এরপর শান মাসুদ ও বাবর আজম যোগ করেন ৮৯ রান। দুর্দান্ত ব্যাটিং করা মাসুদ মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। ১৪৮ বলে ১২ চারের সাহায্যে ৯৫ রান করে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক।
চোট কাটিয়ে দলে ফেরা বাবর আজমও খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ১০৩ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৭৬ রান। সৌদ শাকিল করেন ২৯ এবং গাজী ঘোরি ১৬ রান।
কিন্তু মিডল অর্ডারে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে গেলে পাকিস্তানের ইনিংস আবারও হুমকির মুখে পড়ে। সে জায়গা থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রাজাউল্লাহ।
ইংল্যান্ডের সামনে ১২৯
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৪৪৯ রানে। প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানের লিড নেওয়া ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৯ রান।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন গাস অ্যাটকিনসন। এছাড়া আরও তিন বোলার পেয়েছেন দুটি করে উইকেট।
লক্ষ্য তুলনামূলক ছোট হলেও পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রথম ইনিংসে যেখানে পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে ম্যাচটি একতরফা মনে হচ্ছিলো, সেখানেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান করে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দিয়েছে সফরকারীরা।
নিচের সারির ব্যাটারদের তালিকায়ও রাজাউল্লাহ
টেস্ট অভিষেকে নয় নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের তালিকাতেও রাজাউল্লাহর ৮১ রান জায়গা করে নিয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের আবুল হাসান রাজু ১১৩ রান করে সবার ওপরে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার রেগি ডাফ ১০৪ এবং অ্যাশটন অ্যাগার ৯৮ রান করেছেন।
এদিকে ২০১৬ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে পাকিস্তানের এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ—৪৪৯ রান।
ব্যর্থ সফরে বড় প্রাপ্তি
পুরো সফরে পাকিস্তানের ব্যর্থতা যখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছিলো, তখন এজবাস্টনে রাজাউল্লাহর এ লড়াই নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। অভিষেকেই ব্যাট হাতে এমন বিস্ফোরক পারফরম্যান্স শুধু পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরায়নি, তরুণ এ অলরাউন্ডারের সামর্থ্য নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু করেছে।
ইনিংস হারের দ্বারপ্রান্ত থেকে ৪৪৯—পাকিস্তানের এ অবিশ্বাস্য কামব্যাকের গল্পে তাই সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম রাজাউল্লাহ।
সবার দেশ/এমকেজে




























