কোনও স্বৈরাচার আর এ দেশে ফিরতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম
কোনও স্বৈরাচারকে আর বাংলাদেশে ফিরে আসতে দেয়া হবে না এবং নতুন করে কোনও স্বৈরাচারও তৈরি হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনও স্বৈরাচার এ দেশে আর ফেরত আসতে পারবে না। নতুন স্বৈরাচারও আর তৈরি হতে দেবো না।
সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন,
আপনার জন্য আমরা ১৬ বছর অপেক্ষা করবো না, পাঁচ বছরও অপেক্ষা করবো না। আপনার বাবা যে ভুল করেছেন, সে ভুল আপনি করতে যাবেন না। পতিত স্বৈরাচার আসলে আপনিও কিন্তু তার থেকে রক্ষা পাবেন না।
তিনি আরও বলেন, দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে এবং সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে চট্টগ্রামের সালাউদ্দিনকে উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনি তো কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন! কথা বললে মাঝে মাঝে ভুলভাল বের হয়ে যাচ্ছে। ফলে সালাউদ্দিন সাহেবকে কথা বলতে দিয়েছেন। কিন্তু সালাউদ্দিন সাহেবের কথা জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তারেক রহমানের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন,
তারেক রহমান, এ সমস্যার সংকট আপনিই তৈরি করেছেন। আপনি সংসদকে কার্যকর করেননি। সংসদ কার্যকর না হওয়ার কারণে আজকে আন্দোলন রাজপথে গড়িয়েছে।
তিনি বলেন, শুরুতেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করা হলে সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব হতো। কিন্তু তা না করে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং গণভোটের রায় না মেনে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিরোধী দল সংসদে যোগ দিয়েছে এবং এখনও সংসদে রয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তারপরেও আমরা, এ দেশের স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে, সংসদে গিয়েছি এবং এখনও আছি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আসনে কোনও বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। বরং বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ওই আসনগুলোতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না এবং সংসদকেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো একদলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি একাধিক দাবি তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন,
বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত করতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং আধিপত্যবাদমুক্ত করতে হবে। আপনি জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করুন, সংস্কার নিশ্চিত করুন, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত করুন, জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুন; ইনশাআল্লাহ বিরোধী দল আপনাকে সহযোগিতা করবে।
সবার দেশ/কেএম




























