শিবগঞ্জে হঠাৎ বন্যায় পানিবন্দি প্রায় ১১ হাজার পরিবার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চারটি ইউনিয়নের প্রায় ১১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির ফসল, বন্ধ হয়ে গেছে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ০.৪৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আরও অন্তত দুই দিন পানি বাড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের পুরো এলাকা এবং দূর্লভপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের কিছু অংশ বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। অনেক গ্রামবাসী গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে, শিশুদের নিরাপদ রাখতে উঁচু খাট বা টেবিলে রাখা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় অনেকে স্কুল ভবন বা সড়কের ওপর আশ্রয় নিয়েছে।
দূর্লভপুর ইউনিয়নের বাদশাহপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী গুমানী মন্ডল বলেন, কয়েকদিন আগে পদ্মায় আমার শেষ সম্বল নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন আবার ঘরবাড়ি বন্যায় তলিয়ে গেছে, খোলা আকাশের নিচে থাকছি। একই গ্রামের সোহরাব আলি জানান, নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে সব হারিয়ে ফেলেছেন।
দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম জানান, এ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, পানি ক্রমেই বাড়ছে, পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নদীর ওয়াটার লেভেল ২১.৬৪ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ০.৪৩ সেন্টিমিটার নিচে। পানি আরও দুদিন বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিঞা জানান, বন্যায় ৪২৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৫ হেক্টর আউশ ধান, ২৫ হেক্টর সবজি, পাঁচ হেক্টর হলুদ এবং দুই হেক্টর কলা তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলি জানান, ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, টিন, নগদ অর্থ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
সবার দেশ/এফও




























