Sobar Desh | সবার দেশ রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:১৪, ২১ জুন ২০২৬

বিপৎসীমা ছুঁতে পারে তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার

উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা

উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের উত্তরের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে উত্তরের চার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উত্তরের জেলাগুলোতে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে এবং এ অবস্থা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রের সতর্কবার্তায় নেত্রকোনার কামলাকান্দা, সিলেটের কানাইঘাট ও ফেঞ্জুগঞ্জ এবং বাগেরহাটের মোংলা এলাকায় পানি বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও খুলনা বিভাগসহ ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের এ বৃষ্টির পানি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বর্ষণ মিলিয়ে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

আগামী পাঁচ দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আপাতত এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী কয়েক দিন এ অবস্থাই বজায় থাকতে পারে, যদিও পরবর্তী সময়ে কিছুটা পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে নদী দুটির পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা কিংবা প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা