হাইকোর্টে রিট; সংরক্ষণে নির্বাচনি উপকরণ
ভোটের ফল চ্যালেঞ্জে ৪১ প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে রিট আবেদন করেছেন মোট ৪১ জন পরাজিত প্রার্থী। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ২৫ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ১৩ জন, জামায়াত জোটের দুই দলের ২ জন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
এসব আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার, ফলাফল শিট (রেজাল্ট শিট), সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি উপকরণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস জারি করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের পর সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে পারেন। সে সময়সীমার মধ্যেই আবেদনগুলো করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এখন নোটিসের জবাব পাওয়ার পর মূল শুনানি শুরু হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চকে ‘নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল’ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চকে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার দেয়া হয়েছিলো। পরে অবকাশকালীন সময়ে বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক বেঞ্চ এসব আবেদনের প্রাথমিক শুনানি চালিয়ে যান।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, অধিকাংশ মামলায় নোটিস ফেরতের সময় ধরা হয়েছে ১৯ এপ্রিলের পর, কারণ ওই সময় পর্যন্ত আদালতের অবকাশ চলবে। কিছু মামলায় মে ও জুন মাসেও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটিস ফেরত এলেই মূল শুনানি শুরু হবে।
বিএনপির যেসব প্রার্থী ফল চ্যালেঞ্জ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, মাদারীপুর, চুয়াডাঙ্গা, শেরপুর, বাগেরহাট, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কক্সবাজার, পিরোজপুর, বরগুনা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছেন।
এ ছাড়া জামায়াত জোটের পক্ষে মাওলানা মামুনুল হক ও এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক রিট করেছেন। পাশাপাশি কুমিল্লা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল মতিনও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতসংখ্যক আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এসব মামলার নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় চূড়ান্ত ফল পেতে অপেক্ষা করতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























