চ্যালেঞ্জের মুখে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং এ-সংক্রান্ত রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেনো সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ জানান, আবেদনটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাইকোর্টের এখতিয়ারসম্পন্ন কোনও বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়নি। তবে তিনি বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করার কথা ভাবছেন।
তিনি বলেন,
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল চেয়েছি। একই সঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করলে সে রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ধারিত কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হোক।
এ মামলায় আইনসচিব ও মন্ত্রিপরিষদসচিবকে বিবাদী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।
কী আছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে।
অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—
কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনও ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে তিনি পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য অযোগ্য হবেন না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ বিধানের কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেয়ার সুযোগ সীমিত হয়। অন্যদিকে, এর সমর্থকদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলভিত্তিক সংসদীয় ব্যবস্থা ও সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য দলত্যাগ ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোটদানের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ প্রয়োজন।
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরাসরি ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আজই মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়
এদিকে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ২০ আগস্ট।
সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে রিট দায়েরের ঘটনায় এখন নজর থাকবে হাইকোর্টের প্রাথমিক শুনানির দিকে। আদালত রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে রুল জারি করেন কি না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ধারিত তফসিলের ওপর কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা আসে কি না—তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, রিটটি দায়ের করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও এখতিয়ারসম্পন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চে এর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ধারিত কার্যক্রমে কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করবে আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর।
সবার দেশে/এমকেজে




























