Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ

‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে আটক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের দাবি, পুলিশ তাদের মারধর, শারীরিক হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। এমনকি এক বিক্ষোভকারীকে যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে আঘাত এবং অন্যদের গলা চেপে ধরা ও চুল টেনে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।

বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাসে তুলে মারধরের অভিযোগ

আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সদস্য শরণ্যা শর্মাকে গত ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়। তার অভিযোগ, নারী পুলিশ সদস্যরা তার পোশাক টেনে তুলেছিলেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা জোর করে তাকে বাসে তুলেছিলেন।

শরণ্যার দাবি, একজন নারী পুলিশ সদস্য তার টি-শার্ট মাথার ওপর তুলে দেন, যা তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিলো। এ সময় তার চুলও টানা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাসে তোলার সময় তার একটি পা বাইরে থাকা অবস্থায় লোহার দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে তার পা দরজায় আটকে যায়। ভেতরে থাকা কয়েকজন নারী চিৎকার করে দরজা খোলার অনুরোধ জানালেও পুলিশ সদস্যরা দরজা ঠেলতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন শরণ্যা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টার দিকে তাকে আটক করে নাঙ্গলোইয়ের একটি আটককেন্দ্রে নেয়া হয়। গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আটককেন্দ্রে খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধার অভাব ছিলো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘আধমরা অবস্থায় ফিরবে’ বলে হুমকি

এসএফআইয়ের দিল্লি সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী নাদিয়াকেও গত ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ থেকে আটক করা হয়। তার অভিযোগ, আটকের পর নারী পুলিশ সদস্যরা তার চুল টেনেছেন, চিমটি কেটেছেন এবং মারধর করেছেন।

নাদিয়ার দাবি, মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে একজন পুলিশ সদস্য তার ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। ফোন ফেরত নেয়ার চেষ্টা করায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

তিনি জানান, বাসে তাকে টেনে তোলা, পা দিয়ে আঘাত করা এবং গলা চেপে ধরার মতো ঘটনা ঘটে। তার অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তাকে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কালশিটে দাগ পড়ে।

নাদিয়ার ভাষ্য, পুলিশ সদস্যরা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, বাড়ি ফিরলে তিনি আধমরা অবস্থায় ফিরবেন। অন্য নারী বিক্ষোভকারীদের পোশাক টেনে মাথার ওপর তুলে দিয়ে অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এত কিছুর পরও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে চান না নাদিয়া। তার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্ন বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে আঘাত’

দিল্লিতে পিএইচডি গবেষণারত নোভেল গত ১০ অক্টোবর ভগৎ সিংয়ের পোস্টার হাতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে আটক করতে এবং তার পোস্টার নিয়ে নিতে দেখা যায়।

নোভেলের অভিযোগ, তাকে দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের একটি কমলা রঙের বাসে তুলে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে বারবার চড় মারেন। বাসে তিনি একা থাকায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান তিনি।

নোভেলের দাবি, কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে ধাওয়া করে বাসে তোলেন। বাসে ওঠার পর তিনি পড়ে গেলে তিন-চারজন মিলে তাকে মারধর করেন। তার অভিযোগ, ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে চড় মারছিলেন।

তিনি বলেন, এর আগে বহুবার আটক হলেও এবারই প্রথম নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা ভয় পেয়েছিলেন। কারণ, পুলিশ সদস্যরা তাকে বলছিলেন, বাসে তিনি একা এবং তার সঙ্গে কী ঘটছে, তা কেউ জানতে পারবে না।

নোভেলের বর্ণনা অনুযায়ী, তাকে প্রথমে মুখে ঘুষি মারা হয়। এরপর এক পুলিশ সদস্য তার যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে আঘাত করেন, আরেকজন বুকে লাথি মারেন এবং অন্য একজন তার গলা চেপে ধরেন। পরে তাকে বাসের একটি ছোট খোপে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজেকে পিএইচডি গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি বাবার সেনাবাহিনীতে কাজ করার কথাও পুলিশ সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলে দাবি নোভেলের। কিন্তু তাতেও মারধর বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তার। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নাবালকদেরও মারধরের অভিযোগ

বিক্ষোভে অংশ নেয়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নোভেলের পাশাপাশি অর্জুন নামের এক বিক্ষোভকারীও আটক ব্যক্তিদের ওপর মারধরের অভিযোগ করেছেন।

অর্জুনের দাবি, আটক অবস্থায় কয়েকজন নাবালকও আহত হয়েছে। তাদের কারও কারও হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার মতে, এমনভাবে আঘাত করা হচ্ছিলো, যাতে শরীরে সহজে দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকে।

আটক সাংবাদিকও অন্তত ৩৭ জন

১০ ও ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও আটক করা হয়েছিলো বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনেতে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৫ জনেরও বেশি ছিলেন দিল্লির সাংবাদিক।

আটক সাংবাদিকদের মধ্যে ‘স্ক্রল’, ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’, ‘নিউজলন্ড্রি’ এবং ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র সাংবাদিকরাও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০ অক্টোবর আটক সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন ‘স্ক্রল.ইন’-এর শোয়েব দানিয়াল ও আয়ুষ তিওয়ারি, ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর অনুষ্কা ভরদ্বাজ এবং ‘নিউজলন্ড্রি’র অশ্বিনী কুমার সিং, আস্থা সব্যসাচী ও অনমোল প্রীতম। নিউজলন্ড্রির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক করার সময় তাদের সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছিলো।

আটক বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। 

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
৪৫তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ, নিয়োগ পেলেন ১,৭০২ জন
সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই আর নেই
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
জুলাই জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১
দল হিসেবে আ.লীগের বিচারে তদন্ত চলছে: প্রসিকিউটর তামিম
কমিটি নিয়ে বিরোধ, জামায়াতের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসাবশেষে আহত ১
পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জকসুর বিক্ষোভ
ধূমপান করতে হাত কাঁপছিলো, লজ্জা লাগছিলো: বিদ্যা
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছি,সুস্থ হয়েই ফিরবো: চুয়েট ভিসি
বাংলাদেশের তরুণরা আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা