বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি : ইন্টারনেট বন্ধ, আটক সাতশ
ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার যন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকা ও আশপাশে ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর এবং এর ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও ও ভোডাফোন আইডিয়াকে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত দিল্লি বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এআইএসএ, এসএফআই ও এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য কোনও অনুমতি নেয়া হয়নি। পিটিআইয়ের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত জুলাইয়েও যন্তর মন্তর ও মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিলো। সে সময় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছিলো।
প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় ফের বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবারের এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সবার দেশ/কেএম




























