মসজিদের মাইক জব্দ
উচ্চস্বরে আজান দেয়ায় ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেফতার
ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনরে নির্ধারিত শব্দসীমার চেয়ে বেশি শব্দে লাউডস্পিকারে আজান দেয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মসজিদের মাইক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক বিট কনস্টেবলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার জেলার ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’ নামের একটি অভিযোগ শুনানি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে নাজিবাবাদের মহল্লা মাকবারা এলাকায় একটি মসজিদ থেকে উচ্চস্বরে আজানের শব্দ শুনতে পান তারা। পরে নির্ধারিত শব্দসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
নির্দেশনা পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদের মাইক জব্দ করে এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করে। পরে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে শব্দদূষণসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শান্তিভঙ্গের অভিযোগেও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে বিজনর জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইক নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বিট পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে হলফনামা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে বিজনর জেলায় ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইকের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে মোট ২ হাজার ৫০৯টি মাইক সরিয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে মসজিদ থেকে ১ হাজার ৩২৩টি, মন্দির থেকে ১ হাজার ১১৬টি এবং গুরুদুয়ারা থেকে ৭০টি মাইক অপসারণ করা হয়।
বিজনরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি মাত্রায় মাইক ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























