রূপপুরে ইউরেনিয়াম জ্বালানি আসছে অক্টোবরে: রোসাটম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়েছে জ্বালানি বহনকারী ফ্লাইটের সূচি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে এসব জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেয়া এক বিবৃতিতে রোসাটম জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের চুক্তি ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি ফ্লাইটে জ্বালানি আনা হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী একটি ফ্লাইট বাংলাদেশে আসার কথা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত রুটের পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। নির্ধারিত রুটটি আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, এর আগে পাকিস্তান এ রুটে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এবার কোনও ঘাটতি বা ভুলের কারণে অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অনুমতি না দেয়ার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেন বলেন, ফ্লাইট চলাচলের রুটে থাকা সব দেশের প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়টি রোসাটম ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের জানিয়েছিলো। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ফ্লাইট ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি দুটি ফ্লাইটে আনার কথা ছিলো। এর একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১ অক্টোবর আসার কথা ছিলো। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সাতটি সাপ্তাহিক ফ্লাইটে ৮ অক্টোবর থেকে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি ফ্লাইটে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে। বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এসব জ্বালানি পরিবহন করা হবে। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে, সেসব দেশের আগাম অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক।
নির্ধারিত রুট অনুযায়ী কার্গো বিমানটির কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার কথা ছিলো। পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় এখন বিকল্প রুটে জ্বালানি আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তবে ওই বৈঠকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির বিষয়টি আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিলো তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।
পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি তাজা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাশিয়া থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছিলো। পরে সেগুলো রূপপুর প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়।
সবার দেশ/কেএম




























