গ্যাস সরবরাহ বাড়লো জাতীয় গ্রিডে
দীর্ঘ দেড় মাস ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের পর অবশেষে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। এতে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও সার কারখানায় এখনো চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ায় গ্যাস সংকটে থাকা বিভিন্ন খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘদিনের ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও সময় লাগতে পারে।
সোমবার দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলকারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবর এলো।
দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিলো। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানাকে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়টি শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছিলো।
এদিকে পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মোট ১০টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও সব কটি কার্গো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিশ্চিত হওয়া এলএনজি কার্গোগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে দুটি কার্গো। স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের আরামকো থেকে আসছে আরও দুটি। বাকি পাঁচটি কার্গো খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি আমদানির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্য, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর দেশের গ্যাস পরিস্থিতির বড় একটি অংশ নির্ভর করছে। ফলে সেপ্টেম্বরের বাকি সময়েও পর্যাপ্ত কার্গো নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়তে পারে।
তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও সার কারখানায় এখনো চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি থাকায় সংকট পুরোপুরি কেটেছে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন করে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখা গেলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সবার দেশ/কেএম




























