প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বারবার ত্রুটি, তদন্তের নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার কারণ জানতে চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটি। এ ধরনের ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহে চুক্তিগত অসংগতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সদস্যরা।
বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তি পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুসন্ধান করে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ধরনের ত্রুটি কীভাবে ঘটছে এবং এর পেছনে রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা কিংবা কারিগরি কোনও দুর্বলতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। উড়োজাহাজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহে বিভিন্ন চুক্তির ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বা ভবিষ্যতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে সরকারি কোষাগারে এ পর্যন্ত কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা এখনও অনাদায়ি রয়েছে এবং অনিয়ম কিংবা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে কমিটি।
এ ছাড়া নিষ্পত্তি হওয়া ও অনিষ্পন্ন প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাফতরিক প্রমাণসহ একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিটির উত্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
সরকারি সম্পদ রক্ষা, আর্থিক অনিয়ম বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বেবিচককে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেবিচক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
সবার দেশ/কেএম




























