‘বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনে নজর রাখছে ভারত’
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাক্ষিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনার ওপর তারা নজর রাখছেন। সেখানে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং ঘটনাগুলোর অগ্রগতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে নানা ঘটনা ঘটছে। ভারত সেসব ঘটনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে চান।
এদিকে বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে গড়ায়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। এ দাবিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি চলছে।
বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মঙ্গলবার সকালে কয়েকটি পোশাক কারখানা আংশিকভাবে চালু হলে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গঙ্গার পানি বণ্টন ও আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর বিষয়ে আলোচনা এই কমিশনের নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন একটি আনুষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ মাধ্যম। আন্তঃসীমান্ত নদীসংক্রান্ত যেকোনও আলোচনা এ কমিশনের মাধ্যমেই হওয়ার কথা।
এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ রয়েছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনও অগ্রগতি হলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ—সবকিছুই ভারতের নজরদারিতে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছে ভারত।
সবার দেশ/কেএম




























