যৌবন ধরে রাখতে ‘রেড লাইট’ থেরাপি সানিয়া মির্জার
ত্বক ও চুলে উপকার পাওয়ার দাবি সাবেক টেনিস তারকার, কতটা কার্যকর এই পদ্ধতি?
টেনিস কোর্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে কোটি ভক্তের মন জয় করেছেন ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। ২০২৩ সালে পেশাদার টেনিসকে বিদায় জানানোর পরও ফিটনেস ও সৌন্দর্যচর্চায় নিয়মিত মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। বয়সের ছাপ কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় এবার তার রূপচর্চার রুটিনে যুক্ত হয়েছে ‘রেড লাইট থেরাপি’। এ পদ্ধতি ব্যবহারের পর ত্বক ও চুলে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় ৪০ বছর বয়সী সানিয়া এক সন্তানের মা। ব্যস্ত জীবনযাপনের মধ্যেও নিজের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বেশ সচেতন। তার রূপচর্চার রুটিনে রয়েছে সকালে প্রায় ১০টি ধাপে ত্বকের পরিচর্যা। রাতেও ঘুমাতে যাওয়ার আগে অনুসরণ করেন একাধিক ধাপের স্কিনকেয়ার পদ্ধতি। কোরীয় সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন কৌশলও তার রূপচর্চায় জায়গা করে নিয়েছে।
আধা ঘণ্টার থেরাপিতে কী পরিবর্তন?
এক সাক্ষাৎকারে সানিয়া জানান, গত এক বছরে তার রূপচর্চার তালিকায় যুক্ত হয়েছে রেড লাইট থেরাপি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এ থেরাপি নিতেন তিনি। তার দাবি, নিয়মিত ব্যবহারের পর ত্বকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করেছেন। চুলের যত্নেও এ পদ্ধতি থেকে উপকার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক এ টেনিস তারকা।
সৌন্দর্যচর্চায় প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেড লাইট থেরাপি নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় উপকার পাওয়ার কথা জানালেও এ পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে সমান কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কী এই রেড লাইট থেরাপি?
রেড লাইট থেরাপি একধরনের আলোকভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি, যা ফটোবায়োমডুলেশন বা নিম্নমাত্রার আলোকচিকিৎসা হিসেবেও পরিচিত। এতে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো এবং কিছু ক্ষেত্রে কাছাকাছি-ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করা হয়। এসব আলো ত্বকের কোষের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ত্বকের কোলাজেনের সঙ্গে বয়সের সম্পর্ক রয়েছে। সময়ের সঙ্গে কোলাজেনের পরিমাণ ও গঠন পরিবর্তিত হওয়ায় ত্বকে বলিরেখা, শিথিলতা এবং অন্যান্য বয়সের ছাপ দেখা দিতে পারে। রেড লাইট থেরাপি কোলাজেন-সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কিছু গবেষণায় ত্বকের গঠন, সূক্ষ্ম বলিরেখা ও প্রদাহের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে এ থেরাপি বয়সের ছাপ সম্পূর্ণ মুছে দেয় না। এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। যন্ত্রের ধরন, আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য, ব্যবহারের মাত্রা এবং নিয়মিত ব্যবহারের ওপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে।
চুলের যত্নেও কি কার্যকর?
ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও রেড লাইট থেরাপি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে নিম্নমাত্রার আলোকচিকিৎসা কিছু মানুষের চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে চুল পড়ার পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, বংশগত বৈশিষ্ট্য কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। তাই সবার জন্য একই চিকিৎসা কার্যকর হবে না। চুল পড়ার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু রেড লাইট থেরাপির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি
রেড লাইট থেরাপি সাধারণত সঠিক যন্ত্র ও নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করা হলে সহনীয় বলে বিবেচিত হয়। তবে যন্ত্রের মান, আলোর তীব্রতা এবং ব্যবহারের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। চোখের সুরক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষা করা উচিত নয়।
কিছু যন্ত্রে ১০ থেকে ৩০ মিনিট ব্যবহারের নির্দেশনা থাকতে পারে। কিন্তু সব যন্ত্রের জন্য একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রেড লাইট থেরাপিকে চিরযৌবন ধরে রাখার কোনও জাদুকরি পদ্ধতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখাও সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সানিয়া মির্জার অভিজ্ঞতা সৌন্দর্যচর্চায় নতুন এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। তবে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই এর কার্যকারিতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। রূপচর্চায় নতুন কোনও প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে এর সম্ভাব্য উপকারিতা, সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জানা জরুরি।
সবার দেশ/এমকেজে




























