মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগ: বুয়েটকে গবেষণার নির্দেশ হাইকোর্টের
মোবাইল ফোন টাওয়ারের বিকিরণ (রেডিয়েশন) মানুষের স্বাস্থ্য, পশুপাখি ও পরিবেশের ওপর কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে—তা নির্ণয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) দিয়ে গবেষণা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, আদালতপাড়া ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন না করার বিধান গাইডলাইনে যুক্ত করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৩ মে) বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে বিটিআরসিকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে জনবহুল এলাকায় টাওয়ার স্থাপনের বিষয়ে নতুন বিধান সংযোজন করে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ও দাখিল করতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতে রিটকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতে বলেন, ২০১২ সালে দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিটের পর ২০১৯ সালে হাইকোর্ট মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাত্রা কমানো এবং জনবহুল স্থানে টাওয়ার স্থাপন নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও জানান, পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত দেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ICNIRP) অনুযায়ী বিকিরণের সীমা আরও কমিয়ে এনেছে। ভারতে এ মাত্রা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ১০ ভাগের এক ভাগ নির্ধারণ করা হলেও বাংলাদেশে এখনও তুলনামূলক উচ্চ মাত্রা বহাল রয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান আদালতে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিয়েশনের মাত্রা কমানো, নিরাপদ দূরত্ব নির্ধারণ এবং বাংলাদেশে এর স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার সুপারিশ করা হয়।
আদালতের বুধবারের এ আদেশের মাধ্যমে সে গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ও জনবহুল স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১২ মে) দৈনিক সবার দেশ-এ প্রকাশিত আছমা আক্তারের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘যত্রতত্র মোবাইল টাওয়ার, বারোটা বাজাচ্ছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের’ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। আদালতের আদেশে সে প্রতিবেদনে উত্থাপিত উদ্বেগ ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
বিটিআরসির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মনজুর নাহিদ। রিটকারীর পক্ষে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল।
সবার দেশ/কেএম




























