স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবি
লেবার পার্টিতে বিদ্রোহ, টালমাটাল স্টারমারের ভবিষ্যৎ
স্থানীয় নির্বাচনে ভয়াবহ ভরাডুবির পর তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে বৃটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। দলটির ভেতরে প্রকাশ্য বিদ্রোহ শুরু হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজ সোমবারই (১১ মে) স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে পারে।
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর অন্তত ৪০ জন এমপি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিদ্রোহীদের মধ্যে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক মন্ত্রী জশ সিমন্সও রয়েছেন।
স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জশ সিমন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন এবং দলের ভেতরে ক্ষোভ দ্রুত বাড়ছে। তবে সংকটের মধ্যেও স্টারমার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি যেকোনও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যানজেলা রেইনার প্রকাশ্যে স্টারমারের নীতির সমালোচনা করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন। তিনি দলকে আরও বামঘেঁষা রাজনৈতিক অবস্থানে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অ্যান্ডি বার্নহামকে জাতীয় রাজনীতিতে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, স্টারমারের নেতৃত্ব দুর্বল হলে নতুন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়, সাবেক লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ড এবং এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্টে-এর নাম।
ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠদের দাবি, স্টারমার নেতৃত্ব হারালে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত আছেন। অন্যদিকে ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানিয়েছেন, স্টারমারের আজকের ভাষণের পরই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জে যাবেন কি না।
ধারণা করা হচ্ছে, স্টারমার আজ সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি দলীয় সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল তুলে ধরবেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পর্যাপ্ত সমর্থন ধরে রাখতে না পারলে খুব দ্রুতই নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
লেবার পার্টির ভেতরের বামঘেঁষা অংশ বলছে, কোনো গোপন সমঝোতা বা ‘প্যালেস কুপ’-এর মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তন তারা মেনে নেবে না। তারা পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার দাবি তুলেছে।
দলীয় ক্ষোভের বড় কারণ হয়ে উঠেছে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল। এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর পদ হারিয়েছে এবং ওয়েলসেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেত ফিলিপসন স্বীকার করেছেন যে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই সংকটের সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে অ্যানজেলা রেইনার তার দীর্ঘ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, লেবার পার্টি ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো বদলাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দলকে আবার শ্রমজীবী মানুষের রাজনীতিতে ফিরতে হবে।
তিনি স্টারমারকে সতর্ক করে বলেন, সামান্য নীতিগত পরিবর্তনে হবে না, বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে হবে।
সব মিলিয়ে লেবার পার্টি এখন বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটের মুখোমুখি। আর আজকের দিনটি বৃটিশ রাজনীতিতে কিয়ের স্টারমারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























