এনসিপিতে যোগদানকারীদের খতিয়ে দেখতে ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ গঠন
দলের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ ও নতুন নেতা-কর্মীদের যোগদান প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও যাচাইভিত্তিক করতে ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার (১০ মে) দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছয় সদস্যের এ কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্বদের দলভুক্তির আগে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই-বাছাই করাই হবে কমিটির মূল দায়িত্ব।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এ ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন— এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।
দলীয় সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এনসিপি সাংগঠনিক বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে বড় পরিসরে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে বিতর্কিত ব্যক্তি বা ভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডার অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এ যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১৯ এপ্রিল এবি পার্টি, আপ বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দেন। এর মধ্য দিয়েই মূলত দলটির সম্প্রসারণ কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু হয়।
এরপর ২৪ এপ্রিল বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ কয়েকজন ব্যক্তি দলটিতে যোগ দেন।
সবশেষ ৫ মে এনসিপিতে যোগ দেন মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন এবং অধ্যাপকএম এ এইচ আরিফ।
এছাড়া গত ৮ মে গণঅধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স এবং আপ বাংলাদেশের কয়েকজন নেতা ও কর্মী এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় যোগ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন মতাদর্শ ও পটভূমির ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এনসিপির রাজনৈতিক বিস্তার যেমন বাড়ছে, তেমনি আদর্শিক ভারসাম্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষাও এখন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
সবার দেশ/কেএম




























