Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০৩, ১১ মে ২০২৬

পুড়ে ছাই মুসলিমদের দোকান

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় জ্বলছে পশ্চিমবঙ্গ

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় জ্বলছে পশ্চিমবঙ্গ
ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এ ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সহিংসতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বহু দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, হামলার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষও।

রোববার (১০ মে) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্সে দেয়া এক পোস্টে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটাই কি বাংলায় ভয়ের রাজনীতি শেষ করার নমুনা?

অভিষেকের অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি এলাকায় বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়ে ৬০টিরও বেশি দোকানে আগুন দিয়েছে। এতে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সহিংসতায় এখন পর্যন্ত তাদের অন্তত ছয়জন কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এন্টালির তাপস নস্কর, নানুরের আবির শেখ, বেলেঘাটার বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক, পূর্বস্থলী দক্ষিণের পিঙ্কু দেবনাথ, কুলপির মিঠুন সামন্ত এবং গোঘাটের সহদেব বাগ।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার দোকান জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে হামলা নয়, বরং বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর আঘাত।

তার অভিযোগ, খেজুরির নিচকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিজলি শরিফ এলাকায় যে হামলা হয়েছে, তা ‘চরম বর্বরতা’র উদাহরণ। তিনি বলেন, রাতারাতি অসংখ্য মানুষ জীবিকা হারিয়েছেন। ভয় ও ঘৃণার রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তৃণমূলের এ শীর্ষ নেতা।

এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, তৃণমূলের অভিযোগ—মাঠপর্যায়ে সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করে তুলছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, যাদের অনেকেই মুহূর্তেই হারিয়েছেন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

চূড়ান্ত বাজেটে তামাক করকাঠামো সংস্কারের দাবি
বাংলাদেশ-চীন ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই
ভিনির জোড়া গোলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
পারমাণবিক অস্ত্রই বিশ্বকে বড় যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে: রাশিয়া
ডা. জাহেদের ঘটনায় দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলো ঢাকা
হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ দোররার সাজা
বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর যৌথ ট্রফি প্রদান
ডিসি সারওয়ার আমাদের ‘চোখ খুলে দিয়েছেন’: মন্ত্রী আরিফুল হক
সীমান্ত রক্ষায় সীমান্তবাসীদের সামরিক ট্রেনিং দিতে হবে: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ডের পথে বাংলাদেশ
প্যারিসে ফের খুলছে মেরি ও লুই পাস্তুরের অ্যাপার্টমেন্ট-মিউজিয়াম
প্রেমের বিয়ে, সাবেক স্বামীর ম্যাসেজে প্রাণ গেলো তরুণীর
রিজার্ভে স্বস্তি, ছাড়ালো ৩৬ বিলিয়ন ডলার
১৭ বছর পর পেয়েছি কার্যকর জাতীয় সংসদ: স্পিকার
রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল
৫ আগস্টের পর আ.লীগের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে: নাহিদ ইসলাম