মাইক্রোসফটসহ ৭ প্রতিষ্ঠানের ভিসা কর্মসূচি স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র
বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারী একটি কর্মসূচিতে মাইক্রোসফটসহ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কর্মী ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের উদ্বেগ দূর হয়েছে বলে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এ ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং। মাইক্রোসফট ছাড়াও তালিকায় রয়েছে কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি।
‘পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন’ বা পিএলসি কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারেন। পরবর্তী ধাপে এ প্রক্রিয়া বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ তৈরি করে। এবার এ কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিয়েই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ভ্যান্সের অভিযোগ
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, পিএলসি কর্মসূচির আবেদন করার সময় কিছু প্রতিষ্ঠান অবৈধ তথ্য বা বিভ্রান্তিকর দাবি উপস্থাপন করছে। তিনি বিশেষভাবে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে কর্মী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একাধিক ফেডারেল তদন্ত চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শেয়ারবাজারেও প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিউইয়র্কের লেনদেনে কগনিজেন্টের শেয়ার প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। ইনফোসিস ও উইপ্রোর মার্কিন বাজারে লেনদেনযোগ্য সিকিউরিটিজের দাম সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। মাইক্রোসফটের আগের দরবৃদ্ধিও ঘোষণার পর কিছুটা কমে যায়।
মার্কিন কর্মী নিয়োগে চাপ
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি মার্কিন নাগরিককে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থাকেও কঠোর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগে এ ধরনের বিধিনিষেধ বাড়তে থাকলে প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে দক্ষ কর্মীর সংকট তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব কর্মী সরবরাহের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসাতেও তদন্ত
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড ও এমআইটিসহ নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জে-১ ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের ঘোষণাও এসেছে। এ ভিসার আওতায় সাধারণত বিদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী, অতিথি গবেষক ও বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন।
ভ্যান্স বলেন, মাইক্রোসফট বা অন্য কোনও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। বরং মার্কিন কর্মীদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নেয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য।
সবার দেশ/কেএম




























