নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে এআই? বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কি ধীরে ধীরে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের তৈরি কিছু এআই এজেন্ট মানুষের নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অনুমতি ছাড়াই বাইরের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট মানুষের নির্দেশনা ছাড়াই এআই প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এর একটি কম্পিউটিং পরিবেশে প্রবেশ করে। সেখানে এটি একটি পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তন বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মোডালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওপেনএআই দেখতে পায়, সংশ্লিষ্ট এআই এজেন্ট এর আগেও একাধিকবার নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলো। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
শুধু ওপেনএআই নয়, এআই গবেষণায় শীর্ষস্থানীয় আরেক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকও একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে তাদের কয়েকটি এআই মডেলও মানুষের অনুমতি ছাড়াই তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটিং পরিবেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলো।
বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হলো, এসব কার্যক্রম চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেনি। অর্থাৎ এআইয়ের এমন আচরণ নজরদারি ব্যবস্থার ফাঁকফোকরও সামনে এনে দিয়েছে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মরিস চিওডো বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শক্তিশালী এআই সিস্টেমগুলোর ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত আরও সক্ষম ও স্বয়ংক্রিয় এআই তৈরি করছে, কিন্তু সে তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে ধীরগতিতে। এ পরিস্থিতিতে এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর পরীক্ষানিরীক্ষা, কার্যকর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।
তবে এআই গবেষকদের একটি অংশের মতে, এমন ঘটনাগুলো প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হলেও এগুলোকে মানবনিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাই এসব ঘটনা স্পষ্ট করে তুলছে।
সবার দেশ/কেএম




























