চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
চিকিৎসক তৈরিতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের মানুষের প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। রোগীদের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সোসাইটি অব ওটোলারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ’-এর বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার হলেও স্বাধীনতার ৫৭ বছর পেরিয়ে এখনো সবার দোরগোড়ায় এ সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়নি। এটি রাষ্ট্রের একটি বড় ব্যর্থতা।
গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে শয্যা থাকলেও অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরও উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগের সরকারের সময়ে কেনা অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনও বাক্সবন্দি পড়ে আছে। ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটর থাকলেও তেলের বরাদ্দ নেই। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। আধুনিক চিকিৎসাযন্ত্র কেনা হলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ও মেডিকেল সহকারী নেই।
তিনি বলেন, শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সচল রাখা, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করাও জরুরি। পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
দেশের চিকিৎসকদের মেধা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত মেধাবী। তবে চিকিৎসাসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি দেখা যায়। চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে এখনও অনেক কাজ বাকি। প্রধানমন্ত্রী ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আগ্রহী। বর্তমান সরকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























