চার দিনের রিমান্ডে দিশা
তাহসিফ হত্যাকাণ্ড তদন্তে রহস্যময় গোলকধাঁধা
সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ঘটনার রাতে উত্তরার একটি বারে মদ্যপান, পরে টঙ্গীর মাজার বস্তি-সংলগ্ন মাঠে যাওয়া এবং সেখানে মাদক সংগ্রহের চেষ্টার তথ্য সামনে এসেছে। তবে তুরাগ নদে তাহসিফের মৃত্যু কীভাবে হলো, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। এদিকে ঘটনার রাতে তাহসিফ ও তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে বারে যাওয়া তরুণী জারিকা তাসনীম দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত শুনানি শেষে দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রাত ২টার দিকে কাফরুলের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে নৌপুলিশ। তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দিশার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে দিশার একাধিক স্থানে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই রাতে তারা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। এর আগে সন্ধ্যায় তাদের সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে একাধিকবার যেতে দেখা যায়। একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাহসিফের সঙ্গে দিশাকে দেখা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছিলেন দিশা। তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্টেও তার সঙ্গে দিশার একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আগে গ্রেফতার হওয়া দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা এবং ঘটনার রাতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, মামলার আলামত উদ্ধার এবং ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। পাশাপাশি দীপ ও দিশার বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই এবং দিশার দেয়া তথ্যের সত্যতা পরীক্ষা করতে চায় তদন্ত সংস্থা। আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দীপের বক্তব্যে অসংগতি
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তাহসিফের মৃত্যুর রাতে কী ঘটেছিলো, সে বিষয়ে বন্ধু দীপের দেয়া তথ্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টঙ্গীর তুরাগ নদ-সংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকার মাঠে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। ওই রাতে তাদের সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি দীপ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এক কর্মকর্তা বলেন, মাজার বস্তি-সংলগ্ন মাঠে মাদক সেবন ও কেনাবেচা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। তাহসিফ ও দীপ মাদকসংক্রান্ত কারণে সেখানে গিয়ে থাকতে পারেন, এমন কিছু সূত্র পাওয়া গেছে। তবে ঢাকা থেকে টঙ্গীর ওই মাঠে যাওয়ার কারণ নিয়ে দীপকে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে সেখানে যাওয়ার পর তাহসিফকে ফেলে দীপ কেনো একা চলে গেলেন, সেটিও তদন্তকারীদের কাছে এখনও পরিষ্কার নয়। দীপের দেয়া কোনও তথ্যই যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা হচ্ছে না।
মদ্যপানের পর হেরোইন খুঁজতে যাওয়ার দাবি
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে তাহসিফ, দিশা ও তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের নেস্ট বারে যান। কয়েক দিন আগে দিশা অন্য এক যুবকের বাসায় ইয়াবা সেবন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে তাহসিফ জানতে পেরেছিলেন। এ নিয়ে মন খারাপ থাকায় সেদিন দিশাকে সঙ্গে নিয়ে বারে যান তাহসিফ।
দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে সাউন্ড সিস্টেমে বিষণ্ন সংগীত বাজাতে বলেন। পরে তিনজনই মদ্যপান করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের সময় দিশার সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক নিয়ে তাহসিফের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দিশাকে উদ্দেশ করে তাহসিফ বলেন,
তুমি তো ইয়াবা খেয়েছো, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাবো। আমি হেরোইন খাবো।
দীপের দাবি, রাত ১২টার দিকে বার থেকে বের হয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে দিশাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। তিনিও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। পরে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গী বাজার বস্তি-সংলগ্ন একটি মাঠের উদ্দেশে রওনা হন। দীপের বক্তব্য, সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাহসিফ নিজেই নিয়েছিলেন।
মাঠের পাশে বস্তির কাছে মোটরসাইকেল রেখে তারা ভেতরে যান বলে জানান দীপ। সেখানে স্থানীয় মাদকসেবী ও কারবারিসহ অনেক মানুষ ছিলেন। দীপের দাবি, মাঠে গিয়ে তাহসিফ উচ্চস্বরে হেরোইন চান এবং যত টাকা প্রয়োজন, তা দিতে রাজি হন। পরে কয়েকজনের কাছ থেকে হেরোইন কিনে সেবন করেন তিনি। বারে মদ্যপানের পর মাদক সেবনে তাহসিফ নিজের ওপর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলেও দাবি করেন দীপ।
পুলিশের উপস্থিতিতে বিচ্ছিন্ন হন দুজন
দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফ যখন মাদক সেবন করছিলেন, তখন সেখানে পুলিশের একটি টহল দল আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। পরে নদীর ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন। এ সময় তাহসিফের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি।
দীপ জানান, দুই থেকে তিন মিনিট পর দুই পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ধরেন। নাম-পরিচয় ও ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ক্যাপ্টেন তাহসিফের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। নিজের বাসা মোহাম্মদপুরে বলে জানান। এত রাতে সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে একটি কাজে এসেছেন বলে পুলিশ সদস্যদের জানান তিনি। পরে পুলিশ তাকে বাসায় চলে যেতে বললেও তিনি বস্তির সরু রাস্তা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যান।
পুলিশের কাছে তাহসিফের বন্ধু পরিচয় দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দীপ দাবি করেন, বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি এ পরিচয় ব্যবহার করেন। ট্রাফিক পুলিশ আটকালে নিজেকে বাহিনীর ক্যাপ্টেন বলেও পরিচয় দেন। সেদিন রাতেও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে একই পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন বলে জানান তিনি।
দীপের দাবি, বস্তির ভেতরে ঢুকে রাস্তা চিনতে না পেরে এক মাদকসেবীর সহায়তায় মূল সড়কে ফেরেন। পরে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফকে একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু প্রতিবারই ফোন বন্ধ পান। তাহসিফ মাদক সেবন করতে এসেছেন, তাই মাদক না নিয়ে চলে যাবেন না বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। তাহসিফ তার কাছ থেকে ফোন চার্জ দেয়ার জন্য একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়েছিলেন। সে কারণে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে বলেও ভেবেছিলেন দীপ। পরে তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন।
তবে তাহসিফকে নদীতে পড়ে যেতে দেখেননি বলে দাবি করেছেন দীপ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতিতে পালানোর সময়ই তাহসিফের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি।
হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তার বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফের লাশে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বারের ঘটনাসহ পারিপার্শ্বিক তথ্য ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাহসিফ পানিতে পড়ে যেতে পারেন বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তবে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। দীপের বক্তব্য আরও যাচাই করা প্রয়োজন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন অপেক্ষা করতে হবে। তাহসিফ মাদক সেবন করেছিলেন কি না কিংবা তার শরীরে কোনও বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি ছিলো কি না, পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানা যেতে পারে।
এদিকে তাহসিফ ও দীপের টঙ্গীর মাজার বস্তি-সংলগ্ন মাঠে যাওয়ার একটি ভিডিও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। ভিডিওতে তাহসিফকে বস্তির সরু রাস্তা দিয়ে মাঠের দিকে যেতে দেখা যায়। তার পেছনে হাতে হেলমেট নিয়ে যাচ্ছিলেন দীপ। এ সময় তাহসিফকে দীপের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘দীপ, ডোন্ট টক টু মাচ, লেটস ওয়াক।’
ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার অপেক্ষা
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের সময় তাহসিফের পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, লাশটি আনুমানিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পানির নিচে ছিলো। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়। তাহসিফ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন এবং তার সাঁতার জানার কথা। সে ক্ষেত্রে এমন কোনও পরিস্থিতিতে তিনি পানিতে পড়েছিলেন কি না, যেখানে সাঁতরে ওঠার সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেননি, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের লাশ
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বন্ধু দীপের ডাকে বের হন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮)। ওই রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে আর বাসায় ফেরেননি। রাত ১টার দিকে তার মুঠোফোন থেকে মায়ের মেসেঞ্জারে একটি কণ্ঠবার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘রওনা দিসি আসতেছি’।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ তুরাগ নদে একটি লাশ ভাসার খবর আসে। পরে টঙ্গী নৌপুলিশ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করে। পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয় তাহসিফের। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। ২৯ অক্টোবর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রথমদিকে দীপ দাবি করেছিলেন, একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। পরে টঙ্গীর মাদক স্পটে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় শুরুতে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করলেও ৩০ অক্টোবর দিবাগত রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এরপর দীপকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় নৌপুলিশ। ৩১ অক্টোবর আদালত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তার দেয়া তথ্য যাচাইয়ের মধ্যেই নতুন করে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীরা এখন দীপ ও দিশার বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের কলতথ্য এবং ঘটনাস্থলের আলামত মিলিয়ে দেখছেন। তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা, মাদক সংশ্লিষ্টতা নাকি অন্য কোনও অপরাধ রয়েছে, তা নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবার দেশ/কেএম




























