Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০০:৫১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন

নভেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি

নভেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি
ফাইল ছবি

দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে এ সফর আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে।

ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শনিবারের (১৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পর তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে যোগ দেননি। ভারত ব্রিকসের আয়োজক দেশ হিসেবে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার বাংলাদেশকে সম্মেলনের একটি অধিবেশনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো। তবে ঢাকা এ সফরকে অগ্রাধিকার না দিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে গুরুত্ব দেয়ার অবস্থান নিয়েছে। 

এর আগে আগস্টেও তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো। ভারতীয় পক্ষ সফরের জন্য সম্ভাব্য সময় নিয়েও আলোচনা করেছিলো। এমনকি ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিলো বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল। পরে সফরটি আর হয়নি। 

শেখ হাসিনার বক্তব্যে তৈরি জটিলতা

তারেক রহমানের ভারত সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জটিলতার একটি হয়ে আছে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তিতে নয়াদিল্লি থেকে অডিও সংযোগের মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পরই আগস্টে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর আগে দুই দেশের কর্মকর্তারা সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে যোগাযোগ করছিলেন। 

আগস্টে সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকেও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা সামনে আসে। ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি ভবন জানায়, পরদিনের গার্ড অব অনার অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানের মহড়ার কারণে বাতিল করা হয়েছে। পরে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়। এর পরও দুই দেশের পক্ষ থেকে সফরের কোনও চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। 

প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকার অবস্থান

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও সম্ভাব্য সফরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাওয়া হচ্ছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করুক। তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নয়াদিল্লি এখনও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত বা জবাব দেয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। 

আগস্টে সফর নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, ভারত সফরের আগে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তার প্রকাশ্য বক্তব্যকে সে পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচনা হিসেবে দেখা হচ্ছিলো। 

নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য সফর

নতুন করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার মূল বিষয় এখন নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাব্য আয়োজন। দুই দেশের কর্মকর্তারা এমন একটি সময় নির্ধারণের চেষ্টা করছেন, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরের প্রস্তুতি ও সময় নির্ধারণ নিয়ে যোগাযোগ রাখছেন বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ভারতীয় ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য সফরের সময় নিয়ে আলোচনা চলছিলো। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তখন বলেছিলেন, পরিবেশ অনুকূল হলে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে দ্বিপক্ষীয় সফর হবে; তবে সফরের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। 

দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, জ্বালানি ও প্রত্যর্পণের মতো একাধিক বিষয় এখনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।

ভারতের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ, জ্বালানি, পানি বণ্টন, অবকাঠামো, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ রয়েছে বলে ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে। 

অন্যদিকে, ঢাকা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি আলোচনা ও পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় আয়োজনের পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থানে স্পষ্ট হয়েছে। 

তবে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত কোন সময়ে এবং কী ধরনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ভর করছে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

চীনা যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌবাহিনী প্রধান
কমলাপুর ও সচিবালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ
নভেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি
অপ্রতীমের আইফোন উদ্ধার, সন্ধ্যাতেই হত্যার ধারণা
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৩ শর্ত, অপেক্ষা ট্রাম্পের জবাব
দেশে শিশুসহ মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই: নাহিদ ইসলাম
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক ৩
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরি, বেতন ৭২ হাজার
মিরপুর-বাড্ডায় বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ
নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর ১ জুলাই
বিএনপি পানি খাবে, তবে ঘোলা করে: জামায়াতের আমির
তানভীরের শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশনের অভিযোগ, জবাব চাইলেন নাহিদ
দলীয় নাম ও প্রতীক খোয়ালেন মমতা, প্রার্থীও গ্রেফতার
সিরাজগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০
সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী