৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ
বেনজীরকে ফেরাতে আরও এক ধাপ অগ্রগতি
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতির তথ্য জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রত্যর্পণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দুবাই পুলিশ চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে। বর্তমানে সে তথ্য প্রস্তুত করছে দুদক, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ আটক করার পর বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য চাওয়া হয়। সে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ইতোমধ্যে পাঠিয়েছেন।
আক্তারুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আরও চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকের কাছে এসেছে। বর্তমানে তদন্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করছেন। খুব শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
দুবাই পুলিশ ঠিক কী ধরনের তথ্য চেয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তসংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে দুবাই পুলিশ যেসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা সেসব তথ্যই প্রস্তুত করছেন।
এর আগে নীতিগতভাবে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণে সম্মতি দেয় দুবাই পুলিশ। এরপর আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়।
বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দফতরের ইন্টারপোল শাখা, বাংলাদেশ পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন যৌথভাবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও দুবাই পুলিশের পাঠানো চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। দুবাই পুলিশের চাওয়া সাধারণ নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য দুদকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেগুলো হাতে পেলেই দ্রুত দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
তাদের ভাষ্য, পুরো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং দুবাই পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক হয়েছেন। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুদক ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক চ্যানেলে দুবাইয়ে পাঠিয়েছে। ওই নথিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি দলিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























