তোলপাড় টলিউড পাড়ায়
অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর পিএস ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার
টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায় ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরপরই তার সঙ্গে সব ধরনের পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালত তাকে ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী তরুণী ও অর্ঘ্য একই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেলে তিনি ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন।
তবে অভিযোগ দায়ের করা হয় ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর। গত ২৭ জুন ভুক্তভোগী চ্যাটার্জিহাট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি দেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, ২০২৪ সাল থেকে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান তার পেশাগত সময়সূচি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। সে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার পরিচয় ও কাজের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো।
শ্রাবন্তী বলেন, অর্ঘ্য গ্রেফতার হওয়ার খবর তাকে বিস্মিত ও অস্বস্তিতে ফেলেছে। তার ব্যক্তিগত জীবন বা ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনোভাবেই অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করবেন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।
এদিকে অভিযুক্ত অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের আইনজীবী শঙ্খজিৎ লাল মিত্র অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিযোগকারী তরুণী ও তার মক্কেলের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলো। তার দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এ অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপরই নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ।
সবার দেশ বিনোদন




























