জ্বলে উঠলেন ওয়ারজাবাল-পোরো
ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে স্পেন
দুর্দান্ত দলীয় নৈপুণ্য, শৃঙ্খলিত রক্ষণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর অসাধারণ দক্ষতায় ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে উঠেছে স্পেন। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মিকেল ওয়ারজাবাল ও পেদ্রো পোরোর দুটি গোলে জয় নিশ্চিত করে লা রোজা। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের দেখা পায়নি কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স।
ম্যাচ শুরুর আগে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় ডালাস স্টেডিয়ামে। ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ম্যাচ কর্মকর্তা এবং দর্শকরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। ফরাসি সরকারের অনুরোধে ফিফা এ আয়োজন করে।
শুরু থেকেই দুই দলের কৌশলে ছিলো স্পষ্ট পার্থক্য। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ সাজাতে থাকে। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলার গতিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ভরসা রাখে ফ্রান্স।
ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। দেম্বেলের ক্রস থেকে বল পেয়ে গোলের সামনে একা ছিলেন এমবাপ্পে। তবে শট নিতে দেরি করায় দ্রুত ফিরে এসে তাকে ঘিরে ফেলেন স্পেনের ডিফেন্ডাররা। ফলে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।
এরপর স্পেন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। লামিনে ইয়ামালকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে ২২তম মিনিটে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল। মাইক মেইনিয়ানের অনুমান ঠিক থাকলেও জোরালো শট ঠেকানোর সুযোগ পাননি তিনি।
গোল হজমের পর একের পর এক আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, বারকোলা, অলিসে ও জুল কুন্দের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও প্রতিবারই দৃঢ়তা দেখান স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ও রক্ষণভাগ। কখনও অফসাইড ট্র্যাপ, কখনো লাপোর্তের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপশন, আবার কখনও সিমনের সময়োপযোগী এগিয়ে এসে বল সংগ্রহ—সব মিলিয়ে হতাশ হতে থাকে ফরাসিরা।
প্রথমার্ধে অতিরিক্ত সময়েও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিলো ফ্রান্স। তবে এমবাপ্পের দিকে বাড়ানো থ্রু পাস দ্রুত এগিয়ে এসে ক্লিয়ার করেন উনাই সিমন। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে কোচ দিদিয়ের দেশম প্রথমেই পরিবর্তন আনেন। হলুদ কার্ড পাওয়া আদ্রিয়েন রাবিওকে তুলে মাঠে নামানো হয় মানু কোনোকে। তবে সে পরিবর্তনও ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারেনি।
বরং ৬৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। পুরো আক্রমণের নায়ক ছিলেন পেদ্রো পোরো। প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে বল পেয়ে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলেন তিনি। ওলমোর নিখুঁত রিটার্ন পাস পেয়ে একেবারে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে যান পোরো। অসাধারণ স্থিরতায় মাইক মেইনিয়ানকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
এরপরও হাল ছাড়েনি ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ধরে রেখে স্পেনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তারা। দেম্বেলের থ্রু পাস থেকে জুল কুন্দে, বারকোলার দূরপাল্লার শট এবং এমবাপ্পের কয়েকটি দৌড় আশার আলো জাগালেও শেষ পর্যন্ত কোনও সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি লে ব্লু।
অন্যদিকে স্পেনও পাল্টা আক্রমণে আরও কয়েকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। লামিনে ইয়ামালের একটি শট দারুণভাবে রুখে দেন মেইনিয়ান। যদিও পরে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলায় সে আক্রমণটি আর গুরুত্ব পায়নি।
শেষ দিকে ফ্রান্স মরিয়া হয়ে গোল শোধের চেষ্টা করলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ আর কোনও সুযোগ দেয়নি। নির্ধারিত সময় শেষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
এ জয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হলো স্পেনের। অন্যদিকে টানা আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো কিলিয়ান এমবাপ্পেদের।
এবারের বিশ্বকাপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ফাইনালে জায়গা করে নেয়া স্পেন এখন শিরোপা জয়ের অপেক্ষায়। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে অপর সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।
সবার দেশ/কেএম




























