‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি; বায়োডাটা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্কে জামায়াত এমপি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হলেও এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণীর সঙ্গে তার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, তিনি একবারই ওই তরুণীকে নিয়ে হোটেলে গিয়েছিলেন এবং হোটেলটি তার ড্রাইভার ভাড়া করেছিলেন। ভিডিওতে তাকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়। একই ভিডিওতে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তরুণীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের নাম মাহিয়া বলে উল্লেখ করেন এবং ভিডিওগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। তিনি তার বাসা রাজধানীর মিরপুরে বলেও জানান।
এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এমপির কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা), যা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই বায়োডাটায় উল্লেখ করা হয়েছে, মরিয়ম খাতুনের জন্ম ২০০৮ সালের ২২ মে এবং তিনি ২০২৬ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সেখানে বৈবাহিক অবস্থার ঘরে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বায়োডাটাটিতে আরও দেখা যায়, গত ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই তাতে সুপারিশ করে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকা এবং এমপির দ্বিতীয় বিয়ের দাবির মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এমপির পক্ষ থেকে আলাদা কোনও ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
অন্যদিকে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেছেন, তার মেয়ের সঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে গত ১৭ জুন মগবাজারে তার কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়। তিন লাখ টাকা দেনমোহরে অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, গত ১৩ জুলাই এমপি ও তার পরিবার কার্যালয়ে বিশ্রাম নেয়ার সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। এ ঘটনার জন্য তিনি এমপির সাবেক সহকারী ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করেন।
এ বিষয়ে এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হলেও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহও আলাদা একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিয়ের সময় এমপির প্রথম স্ত্রীসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মরিয়ম বেগম নামে পরিচয় দেওয়া ওই তরুণীও একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন শ্যামনগরে তার বাবার বাড়িতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে এবং অনুষ্ঠানে এমপির প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই ঢাকার মগবাজারে তার বাবার কার্যালয়ে এটি ছিলো একটি পারিবারিক সফর। সেখানে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি এ ধরনের প্রচার বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
তবে ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে, বিয়ের বৈধতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সবার দেশ/কেএম




























