বিএনপি কি একদলীয় শাসনের পথে?—প্রশ্ন আখতার হোসেনের
বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদীয় আসনগুলোতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে কি না—এ প্রশ্ন তুলে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে বিএনপি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন আখতার হোসেন। সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জীবা আমিনা খানের বক্তব্যের পর তিনি এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে জীবা আমিনা খান বলেন, তিনি রোববার রংপুরের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করেছেন এবং ওই দুই এলাকার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসনে প্রশিক্ষিত তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ জানতে চান।
এরপর বক্তব্য দিতে উঠে আখতার হোসেন বলেন, জীবা আমিনার ওই সফরের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বলতে শোনা গেছে যে, সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, বরং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিই প্রকৃত দায়িত্ব পালন করবেন এবং সব ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তার মাধ্যমেই হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এক প্রতিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন যে কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়নি। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সদস্য সংসদেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন। ফলে প্রকৃত অবস্থান কী, সে দায়িত্বের পরিধি কতটুকু এবং এর সাংবিধানিক ভিত্তি কী—এসব বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অতিরিক্ত দায়িত্ব শুধু বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদীয় আসনগুলোতেই দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষায়, বিএনপি কি বিরোধী দলের আসনে তাদের নারী এমপিদের দায়িত্ব দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়? তিনি বলেন, বিষয়টি এতদিন অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় থাকলেও সংসদে বক্তব্যের মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছে। তাই সরকারের কাছে এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
আখতার হোসেনের বক্তব্যের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনও ভৌগোলিক নির্বাচনী এলাকা নির্ধারিত নেই। তারা পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য হিসেবে দেশের যেকোনও স্থানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা অন্য সংসদ সদস্যদের মতোই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা থেকে বরাদ্দ গ্রহণ এবং তা দেশের যেকোনও এলাকায় ব্যবহারের সুযোগ রাখেন। কোনও নারী সংসদ সদস্য যদি একটি বা দুটি এলাকাকে নিজের কর্মপরিধি হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে সেটি তার ব্যক্তিগত উপস্থাপনা; আইনি বা সাংবিধানিকভাবে তার দায়িত্ব সারা দেশজুড়েই প্রযোজ্য।
সবার দেশ/কেএম




























