আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি
সাভারের আশুলিয়ায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও কালো তালিকাভুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া ৫০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ার পর কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ওই তিন কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে যোগ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় বেলা ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং কোনো ধরনের অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই না করা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করছে। এ ধরনের ছাঁটাই বন্ধের দাবিও জানাচ্ছেন তারা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, তিনটি প্রধান দাবি সামনে রেখে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি অন্যতম। এ বিষয়ে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপরও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তাদের দাবির পক্ষে আন্দোলনে নেমেছেন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ার পোশাকশিল্প এলাকায় এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/এফও




























