Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের অবদান নিয়ে সিম্পোজিয়াম

গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের অবদান নিয়ে সিম্পোজিয়াম
ছবি: সবার দেশ

বাংলায় মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশ, ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের অবদান নিয়ে ঢাকায় এক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে ‘সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ ও বাংলায় মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশ’ শীর্ষক এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন তাইরান।

লেখক শামসুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ছড়াকার ও সংগঠক ফরিদ সাইদ। সিম্পোজিয়ামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইডি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম রবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ বলেন, বৃহত্তর মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের অবদান অনস্বীকার্য। ইতিহাসের এ পুনর্পাঠ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে অতীতের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরার পাশাপাশি সামনের পথচলায় সেতুবন্ধন তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান আলোচক লেখক, গবেষক ও নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলার ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার শাসনামলে চীন ও আরব বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়। বিশেষ করে আরবদের সঙ্গে আগে থেকে বিদ্যমান সম্পর্ককে তিনি নতুন করে শক্তিশালী করেন।

তিনি আরও বলেন, গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ মুদ্রানীতির প্রচলন করেন এবং রাজকবিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে ভূমিকা রাখেন। তার শাসনামলে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর এর সারাংশ তুলে ধরেন কবি ও সম্পাদক আফসার নিজাম। তিনি বলেন, আত্মপরিচয় জানতে হলে ইতিহাসের পাঠ জরুরি। বাংলায় মুসলিম সমাজ ও জাতিসত্তা গঠনে সমসাময়িক চিন্তার ঐক্য এবং ঐতিহাসিক অবদান নতুন করে তুলে ধরতে এ প্রবন্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্ধারিত আলোচক লেখক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফুল আহসান বাবু বলেন, রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের মতো দূরদর্শী শাসকদের চিন্তা ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তাদের জীবন ও কর্ম সন্তানদের কাছে গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরেক আলোচক লেখক ও আবৃত্তিশিল্পী জেবুন্নেসা মুনিয়া বলেন, সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের শাসনামল বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সময়। একজন মুসলিম শাসক হয়েও তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রগতিতে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। তার মতে, বাংলা সাহিত্যের সূচনা ও বিকাশের ইতিহাস আলোচনায় মুসলিম মনীষীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে কথাশিল্পী শেখ হিজারুল ইসলাম বলেন, সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের শাসনামলেই বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভিত্তি রচিত হয়েছিল।

আয়োজক সংগঠন তাইরানের কর্ণধার কবি, সাংবাদিক ও সম্পাদক তাসনীম মাহমুদ বলেন, নিজের স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড চিন্তাকে সাংস্কৃতিক পরাধীনতার কাছে সমর্পণ করাই আত্মপরিচয় হারানোর অন্যতম পথ। ইতিহাসকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে একটি জাতির সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড় অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। অতীতের ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে জানার মধ্য দিয়েই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে উপলব্ধি তৈরি হতে পারে। এ লক্ষ্যেই তাইরান বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি লেখক শামসুল আবেদীন বলেন, এ ধরনের আলোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা খুঁজে নিতে হবে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও তাদের অবদান সম্পর্কে জানার পাশাপাশি সেসব অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সিম্পোজিয়ামে আরও উপস্থিত ছিলেন কথাশিল্পী, লেখক, গবেষক ও শিক্ষক জাফর আহমেদ, সালেহ মাহমুদ, কবি জাফর পাঠান, ছড়াকার খান কাওসার কবির, লেখক ও সম্পাদক শাহাদাৎ সরকার, শিশু সাহিত্যিক রবিউল কমল, শিশু সাহিত্যিক কামাল হোসেন, নজরুলসংগীতশিল্পী এস এম হারুনর রশীদ, আবৃত্তিশিল্পী কামাল মীনা, কবি ও লেখক হাবিবুর রহমান, লেখক আম্মার তাকি, নাঈমা রহমানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সবার দেশ/কেএম