শেবাচিম হাসপাতালে আগুন, রোগী সরানোর সময় দুইজনের মৃত্যু
বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে সরাসরি কোনও হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও, রোগী স্থানান্তরের সময় দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাত প্রায় ১১টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলার একটি কর্নারে আগুন লাগে। সেখানে রোগীদের ব্যবহারের জন্য রাখা ফোম, বেডশিট ও বালিশে আগুন ধরে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনেকেই তড়িঘড়ি করে রোগীদের নিয়ে ভবনের বাইরে চলে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের মধ্যে পটুয়াখালীর কাজী আতাউর রহমান (৮০) ও বরিশালের আবুল হোসেন (৬৭) মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, কাজী আতাউর রহমানকে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামানো হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত অক্সিজেন প্রয়োজন হতো। সময়মতো অক্সিজেন না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এমনকি হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে অক্সিজেন চাইলেও তা পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে আবুল হোসেনের পরিবার জানায়, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। আগুন লাগার পর তাকে সরিয়ে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃত দুই রোগীর শারীরিক অবস্থা আগেই গুরুতর ছিলো।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় আগুনের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান বলেন, ভবনের দুটি ইউনিটে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি ছিলেন, যাদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন আনসার সদস্য ও একজন ওয়ার্ড মাস্টার অসুস্থ হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফরী জানান, আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিগারেট বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
যদিও হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সরাসরি অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে রোগী স্থানান্তরের সময় মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে হাসপাতালের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি নিয়ে।
সবার দেশ/কেএম




























