Sobar Desh | সবার দেশ পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:৫৫, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

বিক্রি ২৫ হাজার টাকায়

কুয়াকাটায় ধরা পড়লো ৪ মণ ওজনের দুই মাছ

কুয়াকাটায় ধরা পড়লো ৪ মণ ওজনের দুই মাছ
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির দুটি পাখি মাছ, যা বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত সেইল ফিশ নামে। মাছ দুটির মোট ওজন প্রায় ১৬০ কেজি বা ৪ মণ। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে মাছগুলো মহিপুর মৎস্য মার্কেটে আনা হলে এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।

স্থানীয় মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশাল আকৃতির পাখনার কারণে মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি মাছ’ বা ‘গোলপাতা’ নামে পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে বিরল এ প্রজাতির মাছ দুটি ধরা পড়ে।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ জানান, উপকূলীয় এলাকায় পাখি মাছের চাহিদা তুলনামূলক কম। সে কারণে বড় আকারের মাছ হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত খোলা বাজারে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছ দুটি মোট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

মাছ দুটি প্রতি কেজি ১৫৬ টাকা দরে কিনে নেন টিপু নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, পাখি মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। এ মাছ বিদেশে রফতানি হয় এবং দেশের নামিদামি রেস্টুরেন্টগুলোতেও এর ভালো চাহিদা রয়েছে। মাছ দুটি কেটে প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় পাঠানো হবে।

মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত জেলে কামাল মাঝি বলেন, জাল টানার সময় অন্য মাছের সঙ্গে হঠাৎ করে এ দুটি বড় পাখি মাছ উঠে আসে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।

ইকোফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান জানান, সেইল ফিশ পৃথিবীর দ্রুততম মাছগুলোর একটি। ঘণ্টায় প্রায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে এ মাছ। নৌকার পালের মতো বড় পৃষ্ঠীয় পাখনার কারণে একে সেইল ফিশ বলা হয়। শিকারের সময় এটি রং পরিবর্তন করতেও সক্ষম।

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পাখি মাছ মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ। বৈজ্ঞানিকভাবে একে সেইল ফিশ বলা হয়। স্থানীয় জেলেরা একে পাখি মাছ নামেই চেনে। মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, যা মানবদেহের জন্য বেশ উপকারী।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ