Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:১৩, ৪ অক্টোবর ২০২৬

মৃত্যুদণ্ডের ইনজেকশনেও মৃত্যু নয়, হাসপাতালে অচেতন ক্রিস্টা

মৃত্যুদণ্ডের ইনজেকশনেও মৃত্যু নয়, হাসপাতালে অচেতন ক্রিস্টা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিন দিন ধরে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় আছেন নারী আসামি ক্রিস্টা পাইক। বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি। বর্তমানে ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে তাকে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে ক্রিস্টার আইনজীবীরা জানান, তাকে ইনটিউবেট করে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে। তিনি এখনও অচেতন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দেয়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি তার দুই হাতে গুরুতর আঘাতেরও চিকিৎসা চলছে।

আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল ও লুক ইহনেন এক বিবৃতিতে বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার সময় ক্রিস্টার শরীরে দেয়া পেন্টোবারবিটালের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে তার দুই হাতে পাওয়া উল্লেখযোগ্য আঘাতেরও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর ক্রিস্টার আইনি দল শুক্রবার ন্যাশভিলের আদালতে জরুরি আবেদন করেছে। ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসকে নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ক্রিস্টা পাইক। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে গত প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী হওয়ার কথা ছিলো তার।

এদিকে ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর টেনেসিতে চলতি বছর নির্ধারিত সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন গভর্নর বিল লি। বৃহস্পতিবার তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার সিদ্ধান্তের অন্যতম শর্ত হলো, বুধবারের কার্যকরের প্রচেষ্টায় কী ভুল হয়েছিলো, তা নিয়ে একটি বিস্তৃত ও তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা।

এক বিবৃতিতে গভর্নর বিল লি বলেন, আইনসম্মতভাবে আরোপিত সাজা কার্যকর করা অঙ্গরাজ্যের অন্যতম গুরুতর দায়িত্ব। এটি এমনভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত, যা আইনি ও সাংবিধানিক হওয়ার পাশাপাশি কার্যকরও হয়।

ক্রিস্টার পাশাপাশি ডিসেম্বরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত থাকা গ্যারি সাটনের সাজাও স্থগিত করা হয়েছে। সাটনের আইনজীবীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ক্রিস্টা পাইকের সঙ্গে যা ঘটেছে, কাউকে এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

ক্রিস্টার আইনজীবীরা অবশ্য শুধু পর্যালোচনায় সন্তুষ্ট নন। তারা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন। আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পিভি বলেন, শুধু প্রোটোকল পর্যালোচনার ঘোষণা যথেষ্ট নয়। তার দাবি, ক্রিস্টা যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে অন্য যেকোনও ব্যক্তির তুলনায় নজিরবিহীন মাত্রার শাস্তি ভোগ করেছেন।

স্পিভি ও কেলি গ্লিসন এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, তাদের আশঙ্কা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শিরায় প্রবেশে সমস্যা, শিরা ফেটে যাওয়া, ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ঘাটতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো। এসব ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ক্রিস্টার আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, তার মক্কেলের ভয় ছিলো দীর্ঘায়িত, বেদনাদায়ক ও মানসিকভাবে আঘাতজনিত মৃত্যুর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও সে আশঙ্কার একটি বড় অংশ বাস্তবে ঘটেছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেয়ার পরও ক্রিস্টাকে জীবিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছিলো। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক এ প্রক্রিয়াকে অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুমোদিত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছেন এবং প্রোটোকলের বাইরে অতিরিক্ত কোনও পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমতি ছিলো না।

ঘটনাটি টেনেসির কারেকশনস বিভাগের বর্তমান নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একজন ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার এর আগে অ্যারিজোনায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সেখানে তার দায়িত্বকালে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে আসামি বেঁচে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল। আমহার্স্ট কলেজের অধ্যাপক অস্টিন সারাতের মতে, এমন ঘটনা মৃত্যুদণ্ডের আইনি ব্যবস্থার সামনে জটিল প্রশ্ন তৈরি করে।

এর আগে ১৯৪৬ সালে লুইজিয়ানায় ইলেকট্রিক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উইলি ফ্রান্সিস বেঁচে যান। পরে আদালতে তার আবেদন খারিজ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০০৯ সালে ওহাইওতে রোমেল ব্রুমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে সুপ্রিম কোর্ট দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খোলা রাখলেও ব্রুম ২০২০ সালে কোভিড-১৯-এ মারা যান।

তবে ক্রিস্টা পাইকের ঘটনা আগের এসব ঘটনার চেয়ে আলাদা বলে মনে করছেন অধ্যাপক সারাত। কারণ তার ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ওষুধ শরীরে প্রবেশ করলেও মৃত্যু ঘটেনি। ফলে তিনি এখন একই সঙ্গে গুরুতর শারীরিক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং নতুন এক জটিল আইনি পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তার সাজা কীভাবে কার্যকর হবে বা তার আইনি পরিণতি কী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

৩০০ ফিটে উচ্ছেদ অভিযান, সরানো হলো বিলবোর্ড
রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড
ভারতে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে দুই মুসলিম যুবক হত্যা
জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলার আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখুন: গোলাম পরওয়ার
বর্ষসেরা ট্যুরিজম পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন
মৃত্যুদণ্ডের ইনজেকশনেও মৃত্যু নয়, হাসপাতালে অচেতন ক্রিস্টা
হেলমেট ছুড়ে আখতারুজ্জামান বললেন, ‘অবৈধ অর্ডার মানি না’
শিক্ষকদের পেনশন ৩ মাসে দেয়ার দাবি আখতারের
মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
চুক্তিভিত্তিক জনবল নেবে সেভ দ্য চিলড্রেন
বাগেরহাটে নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩
আমরা যুদ্ধে জড়াতে চাই না: তথ্যমন্ত্রী
নেতানিয়াহু-আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ‘বিমান ছিনতাই নাটক’
রাশিয়া থেকে এলো ইউরেনিয়াম, ভোরে রূপপুরের পথে