Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৫, ১ অক্টোবর ২০২৬

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন ফেডারেল আপিল আদালত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ সার্কিটের আপিল আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার আদেশ দেন।

পাইকের আইনজীবীরা ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টায় প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিলো। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে আদালতের স্থগিতাদেশ আসায় তা আর কার্যকর হয়নি।

পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, ক্রিস্টার নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে কোনও নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটতো। অঙ্গরাজ্যটিতে সর্বশেষ ১৮২০ সালে মার্টিন ইভ নামে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিলো। একটি অপরাধে সহায়তার অভিযোগে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিলো।

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ক্রিস্টা পাইক তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক তাডারিল শিপকে সঙ্গে নিয়ে সহপাঠী কলিন স্লেমোরকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং অভিযুক্তদের অল্প বয়সের কারণে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরের বছর ক্রিস্টা পাইক দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়ার পর তার শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ১১ ও ১৭ বছর বয়সে তিনি ধর্ষণের শিকার হন বলেও তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

আইনজীবীদের দাবি, বিচার চলাকালে তার তৎকালীন আইনজীবীরা এসব অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে জুরিদের সামনে তুলে ধরতে পারেননি। তাদের যুক্তি, শৈশবের গভীর মানসিক আঘাত এবং বয়ঃসন্ধিকালে মস্তিষ্কের বিকাশ একজন তরুণের অপরাধমূলক আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

পাইকের আইনজীবীরা আরও উল্লেখ করেন, একই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাডারিল শিপকে বয়স বিবেচনায় প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত তৃতীয় এক তরুণ সহযোগিতার কথা স্বীকার করার পর মুক্তি পান।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলো।

তবে গভর্নর বিল লি তার প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পাইকের আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং মামলার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে টেনেসির আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গভর্নরের এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেন পাইকের আইনজীবীরা। তাদের ভাষ্য, ১৮ বছর বয়সী পাইকের শৈশবের ভয়াবহ ট্রমা ও তখনকার মানসিক অবস্থার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

নিজের প্রাণভিক্ষার আবেদনে পাইক তার অপরাধের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, তখন তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিজের করা ভুলের গভীরতা বুঝতে তার বহু বছর লেগেছে। একজনের সন্তান, বোন ও বন্ধুকে হত্যা করার কথা ভেবে তিনি আজও শিউরে ওঠেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে নিহত কলিন স্লেমোরের মা মে মার্টিনেজ তার মেয়ের কথা স্মরণ করে জানান, কলিন স্পেশাল অলিম্পিকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, স্কেটিং ভালোবাসতেন এবং কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর টেনেসিতে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত কোনও ব্যক্তির প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো। টেনেসির রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা ছিলো।

চলতি বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা হওয়ার কথা ছিলো। এর আগে ১৩ আগস্ট অ্যান্থনি ড্যারেল হাইনসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আর টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড গত ২১ মে কার্যকরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। শিরায় ইনজেকশন দেয়ার উপযুক্ত রক্তনালি খুঁজে না পাওয়ায় চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারেননি।

এখন টেনেসিতে গ্যারি ওয়েন সাটনের মৃত্যুদণ্ড আগামী ৩ ডিসেম্বর কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। তবে ক্রিস্টা পাইকের ক্ষেত্রে বুধবারের স্থগিতাদেশের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন তারিখ বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: দ্য টেনেসিয়ান, দ্য গার্ডিয়ান

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

প্রশ্ন তোলার অধিকারও সংকুচিত করা হচ্ছে: সালমান মুক্তাদির
ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত
মেধা তালিকায় প্রথম হওয়া বিসিএস গেজেটে নেই জুলাইযোদ্ধা সোহেল-মামুন
টিএইচই র‍্যাংকিংয়ে দেশসেরা জাবি
পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম গঠনের নির্দেশ
জার্মানিতে ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি খালি, সুযোগ অপরচুনিটি কার্ডে
ঢাকা মহানগর বিএনপির ৩ কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪
৮১১ রানের ম্যাচে গিলের ২২৩*, রেকর্ডের ছড়াছড়ি
মাঝআকাশে পাইলটদের মারামারি, সৌদিতে নামলো বিমান
সিলিকন ভ্যালিতে যৌন শিকারির তালিকা ফাঁস
গাজী নজরুলের জামিনে ‘আপত্তি নেই’ মরিয়মের বাবার
হাদির নাম সরিয়ে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’
ভিক্টিম ভিক্টিমের মতো থাকবা, প্রতিবাদ করবা কেনো: আসিফ মাহমুদ
দুর্গাপূজায় ৫ দিন ছুটি, মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ
স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাসপাতালে মাহাথির
২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, শোকজ ৪ জন