প্রেস টিভির দাবি
নেতানিয়াহু-আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ‘বিমান ছিনতাই নাটক’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর প্রেক্ষাপট তৈরি করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বিমান ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা সাজিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি সরানো এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে কথিত এ ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিলো বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কেউ কেউ দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সাজানো বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, এর লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করা, অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যু থেকে জনমত সরিয়ে নেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ানো।
গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান। একপর্যায়ে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা বিমানটি মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরে জানা যায়, বিমানের ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কো-পাইলট—এমন অভিযোগ সামনে আসে। এ সময় একজন দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু ছিলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বিমানকাণ্ডের দুই দিন আগে রোববার নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতে অত্যন্ত গোপন একটি সফর করেছিলেন। এর দুই দিন পরই বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে ৯/১১ হামলার সঙ্গেও তুলনা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমটির এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বিমানকাণ্ডটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা দাবিরও স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।
ফলস ফ্ল্যাগের অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলের
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কথিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস অভিযোগগুলোকে ইহুদিদের ওপর দায় চাপানোর পুরোনো প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা এসব বক্তব্যকে ইহুদি বিদ্বেষ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ফলে বিমানকাণ্ডটি ঘিরে একদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে গুরুতর ষড়যন্ত্রের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিলো, তা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তদন্ত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: প্রেস টিভি
সবার দেশ/কেএম




























